শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু নিবির হত্যা মামলায় আসামী সিয়াম সরদার ও সাকিল গাজিকে ফাঁিস আদেশ ও শিশু আসামী তুহিন গাজিকে তিনটি ধারা ২১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল শরীয়তপুর এর বিচারক । মঙ্গলবার দুপুর ১টায় নারী ও শিশু র্নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরনে জানা যায় , ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিকেল অনুমান ৪টায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাও গ্রামের মনির খার ছেলে শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিবির (১১) বাড়ির পাশে সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা করছিল। এ সময় আসামী সিয়ম সরদার সাকিল গাজি ও তুহিন গাজি যোগ সাজসে অপহরন করে আসামীরা তার মা নিপা আকতারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণ না দেয়ায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ট্রাকের সাথে বেধে টেনে
হেচড়ে নিয়ে নির্মম ভাবে টেনে হেচড়ে টাকের সাথে বেধে নিয়ে আলী হোসেন কাজির বাড়ির পিছনে ইট ভাটার নিকট গর্ত করে বালু চাপা দিয়ে লাশ লুকিয়ে রাখে।
এ ঘটনার পরদিন ভিকটিম নিবিরের দাদা মমিন আলী খা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পালং মডেল থানার পুলিশ মোবাইল ট্যাকিং করে আসামীদের সনাক্ত করে একে একে ৪ জনকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করে। আটক ব্যক্তিরা হলো সিয়াম, তুহিন গাজী ও শাকিল গাজী। আটক তিন জনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ মনির খানের বাড়ির পাশের একটি ইটভাটার গর্ত থেকে নিবিরের লাশ উদ্ধার করে। মামলা তদন্ত করে এরপর আসামী শাওন কে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘ দিন পর ২১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার বিচারক আসামী সিয়াম সরদার ও সাকিল গাজির বিরুদ্ধে আনীত ৩০২ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় মৃত্যুদন্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ,অপর আসামী তুহিন গাজিকে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৭,৮/৩০ তৎসহ প্যানাল কোড ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে শিশু আইনে পর্যায়ক্রমে ৫ বছর ৬ বছর ও ১০ বছর সহ মোট ২১ বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। এ রায়ে বাদী পক্ষ সন্তোষ্ট। আসামী পক্ষ সন্তোষ্ঠ হতে পারেনি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।রায় ঘোষনার সাথে সাথে বাদী পক্ষের সমর্থকরা আসামী পক্ষের সমর্থকদের উপর হামলা করতে গেলে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। মামলাটি পরিচালনা করেছেন সরকার পক্ষে নারী ও শিশু পিপি এড কামরুল হাসান, আসামী পক্ষে এড সৈকত হোসেন, এড তৌহিদ হোসেন ও এড ভোকেট সেলিম আহম্মেদ।
এ ব্যাপারে নিহত শিশু নিবির এর মা নিপা আকতার বলেন, আমি এ রায়ে খুশি হয়েছি। আমি চাই এ আদেশ যেন দ্রæত কার্যকরী হয়।
এ ব্যাপারে আসামী পক্ষের আইনজীবি এড তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা রায়ে খুশি হতে পারিনি। আমাদের কথা পাশ কাটিয়ে বাদীপক্ষে প্রভাবিত হয়ে এ রায় দিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাব।
সরকার পক্ষের আইনজীবি নারী ও শিশু পিপি এড কামরুল হাসান বলেন, এ রায় পেয়ে বাদী পক্ষ সন্তোষ্ঠ। যত দ্রæত এ আদেশ কার্যকর হোক এ কামনা করছি।