শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট  রোগীবাহী গাড়ি আটকে দেয়ায় অভিযোগ, পথে রোগীর মৃত্যু

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগীবাহী গাড়ি আটকে দেয়ায় অভিযোগ, পথে রোগীর মৃত্যু

Social Share Now
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স না নেয়ায় তারা রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় দ্ইু দফা আটকে চালক ও রোগীর স্বজনদের লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর সেই রোগী ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছার আগে মারা যান।
মারা যাওয়া রোগী নামা জমশেদ আলী ঢালী (৬০)। তাঁর বাড়ি ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকায়। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পালং থানা ও মারা যাওয়ার স্বজন যোবায়েদ হোসেন রোমান জানান, ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী গতকাল সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্বজনেরা সকাল নয়টার দিকে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এরপর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
এর পর রোগীর স্বজনরা বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া করেন। রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স ওঠানোর পর এ্যাম্ভুরেন্সএর চালক আরও এক হাজার টাকা বেশি দাবি করে। তখন তারা ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার দিকে রওনা হন। তখন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা দুপুর ২ টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। তাঁরা দাবি করতে থাকেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে কেন বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজন ও চালককে দু দফা লাঞ্চিত করে।
এ্যাম্ভুলেন্সের চালক সালমান বলেন , শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে আমাদের কে লাঞ্চিত করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। পথি মধ্যে রোগী জমশেদ আলী মারা যান।
এরপর রাত ৯টার দিকে জমশেদ আলীর লাশ নিয়ে স্বজনেরা শরীয়তপুরের পালং মডেল
থানায় আসেন। তাঁরা ঘটনাটি প্রথমে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানায়। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলে।
জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন আরো বলেন , গতকাল রাত ‘স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা যাওয়ার পথে দুটি স্থানে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে আমরা অসুস্থ নানাকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হই। ঢাকায় পৌঁছালেও হাসপাতালে পৌঁছাতে পারিনি, তার আগেই আমার নানা মারা গেছেন।’

এ ব্যাপারে অ্যাম্বুলেন্স চালক সুমন খান মুঠোফোনে বলেন, ‘ঢাকায় চলাচল করে এমন একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী ওঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম চালকের কাছে। এর বেশি কিছু নয়। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি। এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, অভিযোগটি মৌখিক হওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি। , তাঁরা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা নেব। এ ছাড়া ও শরীয়তপুরের এ্যাম্ভুলেন্সর চালকরা প্রায়ই রোগীদেও হয়রানি কওে থাকে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, ‘সকালের দিকে বয়স্ক এক লোক স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়।
উল্লেখ্য যে ,গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ওঠানোর কারণে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা আটকে রাখেন। তখন ওই অ্যাম্বুলেন্সে এক নবজাতক শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা পালং মডেল থানায় ১৬ আগস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সাবেক চালক আবু তাহের, তাঁর ছেলে সবুজ দেওয়ানসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

Leave a Reply