শরীয়তপুরে মুক্তিযোদ্ধার জমি জাল দলিল করে আতœসাতের পায়তারার অভিযোগ,আসামীরা ৫দিন পরই জামিনে মুক্তি

শরীয়তপুরে মুক্তিযোদ্ধার জমি জাল দলিল করে আতœসাতের পায়তারার অভিযোগ,আসামীরা ৫দিন পরই জামিনে মুক্তি

Social Share Now
শরীয়তপুর প্রতিনিধি \ শরীয়তপুর সদর উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধার জমি জাল দলিল করে আতœসাত করার পায়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় জাল দলিল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর আদালতের এক পেশকারের বিরুদ্ধে আসামীদের পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আসামীরা জামিনে গিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজনদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বাদীপক্ষ এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছেন। আদালত আসামীদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ৫দিন পরই রোববার জামিনে মুক্তি দেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিন মধ্যপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন খন্দকার এর ৮২ নং দক্ষিনমধ্যপাড়া মৌজার ১১৬ নং বিআরএস খতিয়ানের ৭৩৩ নং মিউটেশন খতিয়ান ভুক্ত ১৭ নং বিআরএস দাগের ১০ শতক জমি তারই এলাকার প্রভাবশালী আবু আলম সরদার, নুরে আলম সরদার, সালাম সরদার, কামাল হোসেন চানমিয়া হাফিজুল ইসলাম ইমন, গংরা ২০২২ সনের ১২ জুলাই যোগসাজসে ৪৩০০ নং একটি ভ’য়া ও জাল দলিল মূলে খরিদ দেখিয়ে সদর উপজেলা ভুমি অফিস থেকে নামজারি তথা মিউটেশন করে নেয়। উক্ত দলিলের দাতা দেখানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন খন্দকার ও তার ভাই মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার,বাবুল আকতার,নেছার উদ্দিন খন্দকার,বোন ফাহিমা ও সালমাসহ ৬ জন কে। এ সংবাদ পেয়ে জমির মালিকগন খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে ৪৩০০ নং দলিটির দাতা রূপচান মেল্যা ও গ্রহিতা তানিয়া আক্তার ও হালিমা আকতার। দলিল নাম্বার অনুযায়ী দাতা ভিন্ন , গ্রহিতা ও ভিন্ন। শুধু দলিলের নাম ও নাম্বার ব্যবহার করে জাল দলিল সৃষ্টি করেছে। উক্ত জমি আবু আলম সরদার, নুরে আলম সরদার, সালাম সরদার গং দের সৎ ভাই মজিদ ও মনু এর নিকট থেকে আবুল সরদার ও বাবুল সরদার ২৬ শতক ক্রয় করে নামজারি করে বিআরএস রেকর্ড করে ভোগদখল করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন খন্দকারের বাবা জালাল উদ্দিন খন্দকার ১৯৯৯ সনে ১৯৪১ নং দলিল মূলে আবুল সরদার ও বাবুল সরদার এর নিকট থেকে ১৩ শতক জমি ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন। এ ১৩ শতক জমি থেকে ১০ শতক জমি আসামীরা জাল দলিল সৃষ্টি করে ভুয়া দলিল দেখিয়ে মিউটেশন করে নেয়। খবর পেয়ে জমির মালিক গন কাগজপত্র যোগাড় করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের আলোকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি উক্ত মিউটেশন বাতিল করে দেন। এরপর জমির মলিকগন জাল দলিল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার ভুমিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।সদও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি তার তদন্ত প্রতিবেদনে উক্ত ৪৩০০ নং দলিলটি জাল ও ভুয়া বলে উল্লেখ করেছেন। এ মামলাটির ধার্য্য তারিখ ছিল ১৯ মে/২৫। ঐ দিন বিচারক চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি ৩০ জুন /২৫ তারিখ ধার্য্য করে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলী করে দেন। ধার্য্য তারিখে বাদী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবি এড .তাজুল ইসলাম মামলার হাজিরা দিয়ে শুনানী করতে গিয়ে দেখেন গত ১৯ জুন/২৫ তারিখে মামলা শুনানী করে আসামীরা জামিনে মুক্তি নিয়েছেন। যাহা বাদীপক্ষ বা বাদীর আইনজীবি জানেন না। তাৎক্ষনিক বাদীর আইনজীবি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আমলে নিলে তিনি নথি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার শেখ মহসিন স্বপনকে ৩দিনের সময় বেধে কারন দর্শানোর নোটিশ দেন। এ দিকে আসামীরা জামিনে গিয়ে বাদী
ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। বাদী মুক্তিযোদ্ধা আদেল উদ্দিন খন্দকার ও তার পরিবার শংকিত। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেন এবং সুষ্ঠ বিচার চান। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল মামলার ধার্য্য তারিখ । ঐ দিন আসামীরা আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা আদেশ উদ্দিন খন্দকার বলেন, আমাদের খরিদকরা জমি আসামীরা জাল দলিল সৃষ্টি করে নামজারি করে নেয়। আমি জানতে পেরে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দায়ের করি। এর প্রেক্ষিতে নামজারি বাতিল হয়। এরপর আমি জালিয়াতদের বিরুদ্ধে মামলা করি। এ মামলায় পেশকার শেখ মহসিন স্বপন আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আসামীদেরকে সহায়তা করে জামিনে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আসামীরা জামিনে গিয়ে আমাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। বিচার আসামীদের জামিন বাতিল করে জেল দেয়ায় আমরা খুশি হয়েছি। পরে ৫দিন পর জামিন রোববার তাদের কে জামিনে মুক্তি দেন।
এ ব্যাপারে আসামীপক্ষের এডভোকেট মইনুল ইসলাম অদুদ বলেন আসলে আমি ও জানতাম মামলার ধার্য্য তারিখ ৩০জুন/২৫ কজলিস্টে ও ৩০ জুন লেখাছিল। আমার সহকারী কোর্টে তারিখ আনতে গিয়ে দেখেন তারিখ কাটাছেড়া ও ১৯ জুন তারিখ লেখা। পরে আমি নথি দেখে ১৯ জুন মামলাটি শুনানি করেছি। এ ঘটনার জন্য আমার মক্কেলরা দায়ী না বলে আমার মনে হচ্ছে।
বাদী পক্ষের এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলাটির ধার্য্য তারিখ ছিল ১৯ মে/২৫। ঐ দিন বিচারক চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি ৩০ জুন /২৫ তারিখ ধার্য্য করে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলী করে দেন। ধার্য্য তারিখে বাদী পক্ষে মামলার হাজিরা দিয়ে শুনানী করতে গিয়ে দেখি গত ১৯ জুন/২৫ তারিখে মামলা শুনানী করে আসামীরা জামিনে মুক্তি পায়। যাহা বাদীপক্ষ বা বাদীর আইনজীবি জানেন না। এরপর বিষয়টি আমি চীফ জুডিশিয়াণ ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে উপস্থাপন করি। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে ঐ কোর্টের পেশকার শেখ মহসিন স্বপন কে কারন দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল মামলার ধার্য্য তারিখ । ঐদিন আদালাতে শুনানির পর বিচার আসামীদের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। পরে রোববার তাদের কে জামিনে মুক্তি দেন।

Leave a Reply