জাজিরা উপজেলার বিকে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি দু’টি কমিটি গঠন করা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যা নিয়ে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মী ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দু’’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মহড়া সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে কলেজের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে অত্র কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইন।
একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গত ১৩-নভেম্বর রোববার রাত ১২ টা ৪ মিনিটে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসীন মাদবর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপ’ুর সমর্থক এস এম সুমন মাহমুদকে সভাপতি এবং মোঃ আরিফ বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করেন। ছাত্রলীগের প্যাডে করা এই বিজ্ঞপ্তিটিতে অনুমোদন কারীর জায়গায় তার নিজের এবং শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের ২নং যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ উজ্জামান ভুলু’র সিল এবং স্বাক্ষর করা ছিলো।
এরপর (১৪-নভেম্বর) একই কমিটির অর্থাৎ শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন টিপু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে রাত ১১ টা ১৬ মিনিটে সাবেক এমপি বি এম মোজাম্মেল হক ভূইয়ার সমর্থক শিহাব মৃধাকে সভাপতি ও আবু বক্কর শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪৩ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেন।
এনিয়ে ফেসবুকসহ নানা ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য পদপ্রত্যাশী ও তাদের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা -কর্মীরা।
অপরদিকে ঘোষণাকৃত কমিটির দুই সভাপতি একে অপরের কমিটিকে বিতর্কিত দাবি করছেন। গত ১৩ তারিখ ঘোষণা হওয়া কমিটির সভাপতি সুমন মাহমুদ দাবি করছেন, একটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা দিতে গেলে অবশ্যই জেলা কমিটির আহ্বায়ক বা সভাপতির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু সে নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে দ্বিতীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। এছাড়া শিহাব মৃধা অনিয়মিত ছাত্র বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে জাজিরার বিকে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে কয়েকদিন যাবত উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে ১৪ তারিখ ঘোষণা হওয়া কমিটির সভাপতি শিহাব মৃধার দাবি প্রথম যে কমিটি করা হয়েছে। সেখানে বি কে নগর কলেজের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়েই কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। কারণ সুমন মাহমুদ এর আগে কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অপরাধে বহিষ্কার হয়ে কলেজ পরিবর্তন করে ঢাকায় ভর্তি হয়। পূর্ণরায় পদ ঘোষণা দেওয়ার পূর্ব মুহুর্তে আবার এই কলেজে এসে ভর্তি হয়।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসীন মাদবর বলেন, পরের কমিটিটি সম্পূর্ণ ছাত্রলীগের মূলনীতি বহির্ভূত। আর যে যুগ্ন আহ্বায়ক পরে নতুন একটি বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেছে, সে নিজেই আমাদের ছাত্রলীগে সক্রিয় নয়। আমরা অতিদ্রæত এই যুগ্ন আহ্বায়কের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।তাছাড়া যেসব ত্যাগী নেতাকর্মীরা আমাদের (১৩-নভেম্বর) কমিটিতে বাদ পড়েছে তারা অবশ্যই আগামীতে নেতৃত্বে আসবে।
শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের ১নং যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, প্রায় ৩-৪ বছর যাবত গঠনতন্ত্র পরিপন্থি হয়ে তারা আমার সাথে সমন্বয় না করেই শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে তারা উক্ত কমিটি দিলে পদবঞ্চিতদের দিয়ে আমিও একটি কাউন্টার কমিটি গঠন করি। সুতরাং তাদের কমিটি যদি বৈধ হয়, তবে আমার কমিটিও বৈধ। আর আমার কমিটি যদি অবৈধ হয় তবে তাদের কমিটিও অবৈধ।
বিষয়টি নিয়ে বিকে নগর বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসাইন বলেন,কলেজে কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমি দুইটি পক্ষকেই তাদের কমিটির তালিকা জমা দিতে বলেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ কোন কাগজ জমা দেয়নি।