নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের ৯৪ নং দিগম্বরপট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান সরকারী নিয়ম নীতির পরিপন্থি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সভাপতি বিদ্যালয়ের সরকারী মালামাল বিক্রি করে আতœসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ নিয়ে অভিভাবক ,শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন এ বিষয়ে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের ৯৪ নং দিগম্বরপট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান সরকারী নিয়ম নীতির পরিপন্থি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি তার দুসম্পর্কের চাচাত ভাই মোতাহার হাওলাদার এর ছেলে ৫ম শ্রেণীর ফাহিম এর অভিভাবক সেজে অভিভাবক সদস্য হয়ে সভাপতি হয়েছেন। যা সরকারী পরিপত্র বর্হিভুত। ২০২১ সালের ৫ মার্চ ৯৪ নং দিগম্বরপট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ সদস্যের এ কমিটিতে বিঝারী ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নুরুজ্জামান কে তার দুসম্পর্কের চাচাত ভাই ৫ম শ্রেণীর ফাহিম এর অভিভাবক সাজিয়ে পুরুষ অভিভাবক সদস্য বানিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়।নিজের সন্তান ব্যতিত অভিভাবক হওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত পক্ষে নুরুজ্জামান কোন অভিভাবক নয়। কোন দাতা সদস্য নয়। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তাকে অভিভাবক সদস্য করে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। সরকারী পরিপত্রে বলা আছে কোন ব্যক্তি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদস্য হতে হলে প্রথমত তাকে অভিভাবক হতে হবে, অথবা জমিদাতা হতে হবে। এ পরিপত্রে বিদ্যুৎসাহী সদস্যের ক্ষেত্রে ও অভিভাবক হতে হবে। এ ক্যাটাগরীর কোনটাই বর্তমান সভাপতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।অন্যের সন্তানের অভিভাবক দেখিয়ে তাহলে প্রধান শিক্ষক তাকে সভাপতি নির্বাচিত দেখিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়ে শিক্ষা অফিস থেকে অনুমোদন নিলেন কেন ?। এটা সম্পূর্ন অবৈধ ও সরকারী নিয়ম পরিপন্থি। নুরুজ্জামান সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করছেন। তাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের উপরে লাল কালি দিয়ে সি এল লিখে রেখেছেন। সে স্কুলের মাঠের মধ্যদিয়ে জনসাধারনের চলাচলের জন্য রাস্তা করে কচিকাচা শিশুদের খেলাধূলার সমস্যার সৃষ্টি করেছেন।স্কুলের পুকুরের জমি জবর দখল করে নিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করে আতœসাৎ করছেন। গত অক্টোবর মাসে বিদ্যালয়ের সরকারী পুরাতন লোহার কমপক্ষে ৫০০ কেজি মালামাল বিক্রি করেছেন বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়। এরপর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সরেজমিন তদন্ত করে এর সত্যতা পেলে ও কোন অজ্ঞাত কারনে অদ্যাবদি কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি।এতে আসকারা পেয়ে সে ঐ সকল শিক্ষক যারা সভাপতির বিরুদ্ধে মালামাল বিক্রির বিষয়ে স্বাক্ষী দিয়েছে তাদেরকে নানা রকম মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন। উক্ত অভিযোগ পত্রে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা রকম নোংরা কথা বলে তার মান স¤œান ক্ষুন্ন করেছে বলে সে অভিযোগ করেছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ স্বাক্ষী দিতে সাহস পাচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে নাম না বলা শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, বর্তমান সভাপতি নুরুজ্জামান অবৈধ। সে অভিভাবক না। সে দাতা না। তা হলে একজন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচত হলেন। সে নির্বাচিত হয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি করেছে।বিদ্যালয়ের পুকুরের জমি দখল করেছে। বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ খান দিয়ে রাস্তা করেছে। শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন করে। আমরা এ সকল বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঝর্না আকতার বলেন,সরকারী মালামাল লোহার দরজা জানালা ও বেঞ্চসহ ৫০০ কেজি মালামালা সভাপতি বিক্রি করেছে। তদন্ত কালে আমরা সহকারী শিক্ষা অফিসারের নিকট স্বাক্ষী দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট নোংরা কথা বলে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছে। আমার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের উপর দিয়ে লাল কালি দিয়ে সিএল লিখে রেখেছে। আমি এর বিচার চাই।
৯৪ নং দিগম্বরপট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোহিনুর আকতার বলেন, কমিটি গঠনের সময় আমি বিরোধিতা করেছি। পরিপত্রের পরিপন্থি কোন সদস্য নেয়া যাবেনা। পরিপত্র ও দেখিয়েছি। প্রভাব খাটিয়ে নুরুজ্জামানের দুসম্পর্কের চাচাত ভাই মোতাহার হাওলাদারের ছেলে ৫ম শ্রেণীর ফাহিম এর অভিভাবক সেজে সদস্য হয়ে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।এ ছাড়া সরকারী মালামাল বিক্রির সময় আমি বিরোধিতা করলে ও সে আমার কথা রাখেনি। স্কুলের জমি দখল, স্কুলের মাঠের মধ্যে দিয়ে রাস্তা তৈরী করার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সে আমাদেরকে কোন পাত্তাই দেয়না। আমরা তার কাছে অসহায়।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি নুরুজ্জামান কে তার মুঠোফোন ০১৭২১৪০৩৫৪০ তে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে বলেন,গাড়িতে আছি নেমে ফোন দিব। পরে বার বার তাকে ফোন করলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।,
এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান সভাপতি কে তার দু সম্পর্কের চাচাত ভাই ফাহিম এর অভিভাবক দেখিয়ে সদস্য করে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আমি তদন্ত করে এটা পেয়েছি। এটা সরকারী বিধি বর্হিভ’ত। এটা বাতিলের জন্য আমরা শীঘ্রই কর্যকরী ব্যবস্থা নিব। এ ছাড়া স্কুলের মালামাল বিক্রির বিষয়ে আমার তদন্ত কালে সত্যতা প্রমাণ মিলেছে।নানা ব্যস্ততার কার প্রতিবেদন দিতে একটু দেরী হয়েছে। যথা শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবো।
নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ ইকবাল মনসুর বলেন, সভাপতি নিয়ম বর্হিভুত কিনা আমি মুখস্ত বলতে পারবোনা । ফাইল দেখে বলতে পারবো। তবে নিয়ম বর্হিভুত হলে ব্যবস্থা নিব।