শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চন্ডিপুর গ্রাম ৩ দিন ধরে পুরুষ শূন্য শূন্য রয়েছে। পুলিশের গ্রেফতারি আতঙ্কে ওই গ্রামের সকল পুরুষ পালিয়েছে। এমনকি গ্রামের শিশু ও নারীরাও রীতিমত পুলিশের ভয়ে দিন পার করছে বলে জানান ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। এদিকে ওই ঘটনায় করা মামলায় আসামি রবিন মাদবর ও দীপু মাদবরকে ধরতে গিয়ে তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের পরিবারের দাবি, পুলিশ তল্লাশি চালাতে এসে বাড়ির দরজা, জানালা ও ব্যবহারের জিনিসপত্র ভেঙে দিয়েছে।তবে পুলিশ বলছেন, আসামী ধরতে গিয়ে কোন বাড়ী ঘর ভাংচুর করেনি। এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।
এদিকে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের আটক করতে গিয়ে মারধরের শিকার শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার এএসআই ফরহাদ হোসেনকে দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দিয়েছেন হামলাকারীরা। তারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রæয়ারী রাতে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামে চন্ডিপুর স্কুলে সাদা পোশাকে অভিযান চালান নড়িয়া থানার এস আই ইকবাল হোসেন, এস আই আকরাম হোসেন, এ এস আই ফরহাদ হোসেন ও ফয়সাল হোসেন। সেখানে মাদক বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় দিপু মাদবর ও নয়ন মাদবরকে গ্রেফতার করেন তারা। এ সময় চন্ডিপুর বাজারের ব্যবসায়ী রবিন মাদবর সেখানে গিয়ে তাদের গ্রেফতারের কারন জানতে চাইলে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা রবিন মাদবরকে কিল ঘুষি মারতে থাকেন। রবিন মাদবরকে মারধরের কারনে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় আটক দিপু মাদবর ও নয়ন মাদবর পালিয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের হামলায় এএসআই ফরহাদের পা ভেঙ্গে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা হলেন, এস আই ইকবাল হোসেন, আক্রাম হোসেন ও এ এস আই মো: ফয়সাল। তাদের স্থানী চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধে স্থানীয় ২৩ জনকে আসামী ও অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনের নামে মামলা করে এবং মাদক মামলায় ৪জনকে আসামি করে এসআই ইকবাল বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় ২টি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সন্দেহজনক ভাবে ৬জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ মামলার আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ দুটি বাড়িতে প্রবেশ করে বাসার গেইট, দরজা জানালাসহ আবাবপত্র ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে
। গত দিন ধরে চন্ডিপুর পুরো এলাকার পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। এলাকায় কোন অপরিচিত লোক দেখলে দরজা জানালা বন্দ করে দেয়। কেউ ভয়ে কারে সাথে কথা বলতে চায় না।
ভুক্তভোগী চন্ডিপুর গ্রামের আনু সরদারের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, শুক্রবার রাতে পুলিশ এলাকায় এসে সবাইকে দরজা-জানালা আটকে দিতে বলে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশের ভয়ে এলাকায় কোন পুরুষ মানুষ থাকতে পারছে না।
ওই ঘটনায় করা মামলায় আসামি রবিন মাদবর ও দীপু মাদবরকে ধরতে গিয়ে তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর তাদের পরিবারের দাবি। পুলিশ তল্লাশি চালাতে এসে বাড়ির দরজা, জানালা ও ব্যবহারের জিনিসপত্র ভেঙে দিয়েছে পুলিশ।
দীপু মাদবরের ভাই সোহেল মাদবর বলেন, ‘আমার ভাই স্যানিটারি কাজের ঠিকাদার। ওই দিন হইচই শুনে বিদ্যালয়ের ভেতর গিয়েছিল। হয়রানি করতে পুলিশ তাঁকে মাদক ও মারামারির মামলায় আসামি করেছে। সে যদি অপরাধ করে থাকে, আইন তাকে শাস্তি দেবে। কিন্তু পুলিশ কেন আমাদের বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করল। সারা বাড়ি তছনছ করে দিয়েছে। ভাত খাওয়ার চাল-ডাল, একটি প্লেটও রেখে যায়নি। এর বিচার আমরা কার কাছে দেব?’
নড়িয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের আটক করতে গিয়ে মারধরের শিকার শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। মারধরের শিকার এএসআই ফরহাদ হোসেনকে দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দিয়েছেন হামলাকারীরা। তবে পুলিশ কোন বাড়ী ঘর ভাংচুর করেনি। এটা মিথ্যা ও বানোয়াট।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, গত ১৩ ফেব্রæয়ারী সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এএসআই ফরহাদের নেতৃত্বে কেদারপুরের চন্ডিপুরে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাদক সহ দুই জনকে আটক করা হয়। তাদের আটকের খবর পেয়ে এলাকার কিছু লোক পুলিশের উপর হামলা করে এএস আই ফরহাদকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। এসআই ফরহাদ ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ছিনিয়ে নেওয়া এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ২৩জনকে আসামী ও অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনের নামে মামলা এবং মাদক আইনে ৪জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে ৯জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।