৭দিন না যেতেই ফের আওয়ামীলীগের দু’গ্রæপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষে শত শত হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার পর জেলা না খেটেই জামিনে চলে আসায় আসকারা পেয়ে পুনরায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ৭দিন না যেতেই বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আঃ কুদ্দুস বেপারী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আঃ জলিল মাদবর সমর্থকদের মধ্যে বুধবার সকাল অনুমান ৬টায় ফের সংঘর্ষ হয়। বুধবার সকাল বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি, বুধাইর হাট ও খার কা›ি এলাকায় জলিল মাদবর সমর্থকরা দফায় দফায় হামলা চালিয়ে শতাধিক বাড়িতে বোমার বিস্ফোরন ঘটায়। বোমার আঘাতে অনেক বাড়ির টিনের ঘরের বেড়া ও চাল উড়ে গেছে। হামলাকারীরা রহমান খার বাড়ি, কুদ্দুছ বেপারীর বাড়ি, শাহেদ আলী মুন্সির বাড়ি, মনির হোসেন এর বাড়ি ইছব আলী চেীকিদারের বাড়ি সহ শতাধিক বাড়িতে বোমার বিস্ফোরন ঘটায়। এ সময় হামলাকারীরা ব্যাপক ভাবে ঘরের মালামাল ঘরের বেড়া দরজা জানালা সহ আসবাব পত্র ও পাক ঘরের চুল বাথরুম ভেঙ্গে ফেলে। তারা ঘর থেকে নগদ টাকা সোনার গহেনা সহ মূল্যমান মালাম,াল ও গরু ছাগল লুটে নিয়ে যায়। এ সময় বোমা নিক্ষেপ করতে গিয়ে জলিল মাদবর সমথর্ক সুজন মাদবর ও রাসেল মাদবর বোমার বিস্ফোরনে হাত উড়ে যায়। বর্তমানে তারা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় কুদ্দুছ বেপারীর সমর্থক ৬ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন,রনি বেপারী, ফারুক বেপারী, খোকন বেপারী, বাবুল সরদার, তোতা মিয়া সারেং,হালিমা আকতার মুন্নিসহ মোট ১০জন আহত হয়। আহতদের কে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকা জনক। এ সময় খবর পেয়ে জাজিরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সাথে জাড়িত থাকার দায়ে ৪জনকে তোতা মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মাদবর, সাব্বির মাদবর, আজগর মাদবরকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১মাসের করে কারাদন্ডাদেশ প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে এলাকায় পুলিশ মোতয়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। নিরীহ নারী পুরুষ এলাকা থেকে মালামাল সহ অন্রত্র চলে যাচ্ছে।বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ১০টাটা পর্যন্ত সংঘর্ষের কারনে কুদ্দুস বেপারী উচ্চবিদ্যালয়, কালু বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সারেং কান্দি সারেং
বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সহ ৪/৫টি স্কুলে কোন ছাত্রছাত্রি আসেনি। স্কুল ছিল বন্ধ। শিক্ষকরা এসে স্কুল খুলে বসে ছিল। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে যান। তিনি শিশুদের নিরাপদে রাখার পরামর্শ দেন। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাজিরা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান আ: কুদ্দুস বেপারী ও জাজিরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য, পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আঃ জলিল মাদবর গ্রুপের লোকজনের মধ্যে উক্ত সংর্ষ হয়। ৩/৪ দিন পূর্বে কুদ্দুস গংরা জামিনে এসে এলাকায় বোমা ফাটিয়ে জানান দেয়। এরপর গত মঙ্গলবার জলিল মাদবর গংরা জামিনে এসে কুদ্দুস বেপারীর বাড়ি সহ সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়।
সাবেক যুবলীগ নেতা এবং পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আ: জলিল মাদবর বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই আমার সমর্থকদের বাড়িতে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগিতায় বাড়িতে থাকলেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দেয়াসহ প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার জামিনে এসে এলাকায় বোমা ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করেছে।
চেয়ারম্যান আ: কুদ্দুস বেপারী বলেন, বুধবার সকালে হঠাৎ আ: জলিল মাদবরের সমর্থকরা আমার বাড়ি ঘেরাও করে হামলা করে। আমি তাৎক্ষণিক ওসি জাজিরাকে অবগত করতে ফোন দেই। বাড়ী ঘর রক্ষার জন্য যা যা করা লাগে তাই করিছি। তা না করলে বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে সব নিয়ে যেতো। এ ঘটনায় আমার সমর্থক ৬জন আহত হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকাল বেলা আমরা সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে বিলাসপুরে যাই । ঘটনার সাথে জড়িত ৪জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।তবে এরা দীর্ঘ দিন যাবত এলঅকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে আটক করার অভিযান চলছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৪জনকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য: গত (২৩-জানুয়ারী) বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫ শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাজিরা থানা পুলিশ ১৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে কোন মামলা না করে এই ঘটনায় প্রথমে আটককৃতদের থানায় হাজির করা ও গুলী করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।