শিশু বাইজিত পেলো নতুন জামা, শুধু বেঁচে রইলো না বাবা

শিশু বাইজিত পেলো নতুন জামা, শুধু বেঁচে রইলো না বাবা


৬ মাসের ছেলে সন্তান বাইজিতের জন্য ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে একটি জামা কিনেছিলেন সাইফুল লাকুরিয়া (৩৫)। ইচ্ছা ছিল ঈদের দিন নিজ হাতে ছেলের গায়ে জামাটি পরিয়ে দেবেন। সেই শখ পূরণ হলো
না বাবা সাইফুল লাকুরিয়ার। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা ট্রাভেলস নামের একটি বাস সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় আরও তিনজন নিহত হয়।বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মহাসড়কে (ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে) বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে নিহত হয় সাইফুলসহ আরও তিনজন। আহত হন অন্তত ১৯ জন।নিহত সাইফুল লাকুরিয়া শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের চরচান্দা ঢালী কান্দি এলাকার বাসিন্দা। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।নিহত অন্যরা হলেন নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ কাজি ও সখিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন (৬০)। নিহত অপরজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, ঢাকায় গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন সাইফুল লাকুরিয়া। বেতন ও ঈদের বোনাস তুলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন তিনি। পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত সাইফুল লাকুরিয়ার স্ত্রী রিক্তা আহাজারি করতে করতে বলেন ২ হাজার ১০০ টাকার জামা কিনেছিল আমার বাইজিত বাবার জন্য। আমার লাইগা একখানা শাড়ি কিনছে। শ্বশুরের লাইগা একটা সাদা পাঞ্জাবি। বাড়িত আইলো লাশ হইয়া। আমার আর কিছুই রইলো না। আমি বিধবা হলাম তাতে কোনো দুঃখ নাই। আমার পুলাডা এতিম হইয়া গেলো রে। ও আমার আল্লাহ রে।
সাইফুল লাকুরিয়ার বাবা হাবিব লাকুরিয়া (৭০) বলেন, আমার ৪ ছেলে। তার মধ্যে সাইফুল বাবা ছিল আমার আদরের। আমাকে একা করে দিলো বাবা সাইফুল। আমার নাতিও বউমাকে এতিম-বিধবা করে দিয়ে চলে গেলো রে। আমার জন্য আমার বাপজানে একটা পাঞ্জাবি আনছে। আমার বাবার হাতে জামা পরতে পারলাম না। গত কয়েক মাস আগে আমার বউকে হারালাম। আমার আর কিছুই রইলো না।
নিহত সাইফুলের সহযাত্রী ছিলেন তার ভাগিনা নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা ট্রাভেলস বাসে উঠছি। মামা সামনে আমি পেছনে বসে ছিলাম। পরে শ্রীনগরে আসলেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় সব লন্ড ভন্ড হয়ে গেলো। মামাকে বাঁচাতে পারলাম না। মামার লাশ নিয়ে বাড়িতে আনতে হলো।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনায় সখিপুরের দ’ুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ২৫ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply