শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির টাকা আতœসাতের অভিযোগে বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সভাপতিকে বহিঃস্কার করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির বর্তমান সভাপতি এড. আবু সাঈদ ও সাবেক সভাপতি এড. জহিরুল ইসলাম কে সমিতির টাকা আতœসাতের অভিযোগে বহিঃস্কার করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা কোন আদালতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেনা।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. তাজুল ইসলাম জানান, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির এফডিআর এর ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সহ বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাতের দায়ে জেলা আইনজীীব সমিতির সভাপতি এড. আবু সাঈদ ও সাবেক
সভাপতি এড. জহিরুল ইসলাম কে জেলা আইনজীবি সমিতি থেকে বহিঃস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে এড. বজলুর রশিদ আকন্দকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৮ মে’র মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবেন। আগামী ১০ মে সমিতির জরুরী সাধারন সভায় আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি এড. কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি রাকিবুল হাসান রোমান, সাধারন সম্পাদক এড.তাজুল ইসলাম, যুগ্নসাধারন সম্পাদক এড. মৃধা নজরুল কবির, সহসাধারন সম্পাদক এড. নুরুল হক হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ এড আবুল কাসেম সরদার, অডিট সম্পাদক এড. জসিম উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য এড. আলমগীর হোসেন হাওলাদার, এড ড. আমিনুল ইসলাম, এড আতাউর রহমান সোহেল, এড.শহিদুল ইসলাম সজিব, এড আবুল কাসেম ফজলুল হক।
সমিতির তথ্য অনুযাীয় ২০১৮ সাল থেকে এ যাবত সমিতির আয় ওকালতনামা , জামিন নামা, অন্যান্য দরখাস্তের ফরম বিক্রিত টাকা, নবায়ন ফি, ভর্তি ফি, বাৎসরিক চাদা, সরকারী অনুদান, করোনা কালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুদান,মেডিকেল ফান্ড, কল্যাণ ফান্ডের টাকা সহ যাবতীয় আয়ের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিজেরা আতœসাৎ করেছেন। বিভিন্ন সময় তারা দু’জনে পর্যায়ক্রমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের দায়িত পালন কালে এ টাকা ব্যাংকে সমিতির হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দাখিল করেছে।মাত্র কয়েকদিন পূর্বে এ ঘটনা জানাজানির পরে বর্তমান সভাপতি এড আবু সাঈদ ৪০ লাখ টাকা একটি চেক এর মাধ্যমে ফেরৎ দিয়েছেন। এরপর তিনি তার ফেইসবুক একাউন্টে একটি স্টাটার্সের মাধ্যমে বলেছেন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ৪০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। বাকি টাকা জমা দেয়ার পরে তিনি আইনজীবি সমিতিতে আসবেন। এরপর সমিতির সভাপতির পদ থেকে চির দিনের জন্যপদত্যাগ করে চলে যাবেন। সেদিন অনেকের গায়ের ধবধবে সাদা জামা ময়লা আর্বজনায় দুগন্ধ ছড়াবে। এতে প্রমানিত যে টাকা তারা আতœসাৎ করেছেন।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীীব সমিতির সিনিয়র এড. হানিফ মিয়া বলেন, আমাদের ধারনা জেলা আইনজীীব সমিতির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি মিলে ৫ কোটি টাকা আতœসাঃ করেছেন। কমপক্ষে ১৫ দিন যাবত বর্তমান সভাপতি পলায়ন করেছে। তদন্ত কালে এ সব রহস্য বেরিয়ে আসবে।
জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত যে ১কোটি ৮০ লাখ টাকা আতœসাৎ করেছে। তদন্ত করলে আরো কিছু বের হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে আগামী ১০ মে জরুরী সাধারন সভায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব।