শরীয়তপুরে নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে ডাকাতরা অন্তত ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়ার ঘটনায় ৩দিনে ও পুলিশ কাউকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি।সিসি টিভি ফুটেজে স্পষ্ট ডাকাতের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী ডাকাতি কালে পুলিশের কোন টহল বা তৎপরতা দেখা যায়নি। বিজলী ক্যবলস এর শাখা ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বিজলী ক্যাবলস এর শাখা ব্যবস্থাপকের দায়ের করা মামলার বিবরন ও আহত নিরাপত্তাকর্মী সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত অনুমান ৩টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে অজ্ঞাত নামা ৭/৮ জন ডাকাতদল পালং মডেল থানার মাত্র ১০০ গজের মধ্যে ইতালি প্লাজার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। ডাকাতরা বিজলী ক্যাবলস এর কলাপসিবল গেট ও সাটারের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে বিজলী ক্যাবলস এর বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাশ ভেঙ্গে নগদ ১৫হাজার ৮১৭টাকা দুটি পিকআপ করে নিয়ে যায়। বিজলী ক্যাবলসের তালা ভেঙে মালামাল তুলে নেওয়ার সময় টের পেয়ে পাশের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রউফ পরিচয় জানতে চায় । এসময় ডাকাতরা পেছন থেকে তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়্ এবং চেতনানাশক দিয়ে তাকে গাড়ির ভেতর হাত পা বেঁধে
রাখে । পরে দুটি পিকআপে বিজলী ক্যাবলসের বিপুল সংখ্যক মালামাল নিয়ে চলে যায়। এ সময় ডাকাতেরা মার্কেটে থাকা দুটি সিসি
ক্যামেরার তার কেটে দেয়। ডাকাতের অজ্ঞাতসারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনের সিসি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা ধারন করে। এ ছাড়া পার্শ্ববতী ন্যাশনাল ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় ধারন করা ফুটেজে দেখা যায় রাত সাড়ে ৩টায় মেইন সড়েেকর পাশে ন্যাশনাল ব্যাংক সংলগ্ন দক্ষিন পার্শ্বে রিপনের চায়ের দোকানে কয়েকজন পুলিশ বসে চা খাচ্ছে। এ সময় একজন পুলিশ ওঠে এদিক সেদিক টর্চ মেরে আবার চায়ের দোকানে বসে। সকালে অচেতন অবস্থায় ওই মার্কেটের পাশ থেকে নিরাপত্তাকর্মীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার খবর পেয়ে বিজলী ক্যাবলস এর শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ শাহিন মিয়া তাৎক্ষনিক শরীয়তপুরে এসে বিজলী ক্যবলস এর কতৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৩দিন অতিবাহিত হলে ও পালং মডেল থানা পুলিশ কাউকে সনাক্ত বা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। এ ছাড়াও ঈদের ২/৩দিন পূর্বে পালং মডেল থানার মাত্র ৩০০ গজের মধ্যে উত্তরা ব্যাংকের সামনে থেকে এক মহিলা গ্রাহকের ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। গত ১০জানুয়ারীর বিবি ক্যবলস এর শো রুম থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ সকল ঘটনায় নিয়মিত মামলা হলে ও কেউ সনাক্ত বা গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। শহরবাসি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে আহত নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রউফ বলেন, ৩০ জুন তাহাজ্জুত নামাজ শেষে হঠাৎ দেখি ২টি পিকআপসহ কয়েকজন মানুষ। পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম এখানে কি কোনো মাল নামবে? এরমধ্যে পেছন থেকে পিকআপের ড্রাইভার আমার মাথায় বারি দেয়। সামনের লোক বলতেছে ওরে মেরে ফেলো। এরপরে টেনে গাড়িতে তুলে মুখ বেঁধে নাকে কিছু একটা ধরলো। এরপর আর আমি কিছু জানি না। আর ওদের মুখবাঁধা থাকায় কাউকে চিনতে পারিনি।
এ বিষয়ে বিজলী ক্যাবলসের শাখা ব্যবস্থাপক মো. শাহীন হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আমরা বাড়ি যাই। সকালে খবর পেয়ে ছুটে আসি। একজন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নাইটগার্ড ছিল তাকে আহত করে আমাদের মালপত্র নিয়ে গেছে। আমাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার বেশি মালামাল নিয়েগেছে। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে ঘটনার সময় রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশ ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে রিপনের চায়ের দোকানে বসা থাকার বিষয়ে কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেয়।এরপর তার সরকারী ০১৩২০১০০৩৭৪ মোবাইল নাম্বারে বার বার ফোন করলে ও তিনি রিসিভ করেননি।