শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিবন্ধীর জমি জবর দখল ও ঘর ভেঙ্গে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।এতে প্রতিবন্ধীর কমপক্ষে ৭/৮ কোটি টাকার মালামাল ও জমি জবর দখল করেছে। পৌর কাউন্সিলর বলছেন,বার বার দরবারের তারিখ দিয়ে ও প্রতিপক্ষ দরবারে হাজির হচ্ছেনা এবং আমার ক্রয়কৃত জমির সীমানা বুঝিয়ে দিচ্ছেনা । তাই আমি আমার জায়গা থেকে দোকান পাট উচ্ছেদ করে দিয়েছি।পুলিশ বলছে ঘর ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
সরেজমিন ঘুরে ও টিটু কোতোয়াল জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং স্কুল রোড এলাকায় ৬০নং পালং মৌজার বিআরএস ৪৬৭ খতিয়ানের ৩১০২ নং দাগে ২৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জমির উপর বিদ্যমান টিনের দোকান ঘর উত্তোলন করে সরকারের খাজনা পরিশোধ করে মরহুম সিরাজুল হক কোতোয়ালের স্ত্রী কামরুন্নাহার ও তার একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলে টিটু কোতোয়াল নিজ নামে রেকর্ডকৃত দোকানে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছেন ।স্থানীয় শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পৗরসভা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া ও তার সহযোগী সহপাঠি সহ কতিপয় প্রভাবশালী যুবক ও দলীয় কর্মী নিয়ে আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শুক্রবার কাক ডাকা ভোরে কাউকে না জানিয়ে জোর পূর্বক জবর দখল করে ৩টি দোকান ঘর ভাংচুর করে দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। টিটু কোতোয়ালের তথ্যমতে ৩টি দোকান ঘর ও মালামাল সহ অনুমান মূল্য ৭/৮ কোটি টাকা।খবর পেয়ে জমির মালিক কামরুন্নাহার ও তার প্রতিবন্ধী ছেলে টিটু কোতোয়াল এসে বাধা দিলে তাদের বাধা উপেক্ষা করে দোকান পাট ভাংচুর করে দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
পালং মডেল থানার ওসি মোঃ আকতার হোসেন খবর পেয়ে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সত্যতা প্রমান পায়। তারা উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে স্থানীয় মুরব্বী সহ যেকোন দিন বিবাদমান জমি পরিমাপ করে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার আশ্বাস দেয়। উপযুক্ত সুরাহা বা সহযোগিতা না পেয়ে প্রতিবন্ধী টিটু কোতোয়াল পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
প্রতিবন্ধী টিটু কোতোয়াল বলেন,আমি প্রতিবন্ধী বলে কেউ আমাকে সাহায্য করছেনা। আমি অসহায়। আদালতে এ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা থাকা সত্যে ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জোর পূর্বক আমার দোকানপাট ভেঙ্গে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এতে আমার কমপক্ষে ৭/৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে জমির মালিক কামরুন্নাহার মিনু বলেন, বিবাদমান জমি আমার পৈত্রিক সম্পদ।আমি অসহায় বিধাব নারী। আমার একমাত্র পুত্র সন্তান টিটু কোতোয়াল প্রতিবন্ধী। আমি আমার জমিতে দোকানপাট তুলে নিজের নামে মিটার দিয়ে জমির খাজনাদি পরিশোধ করে ব্যবসা বানিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিল পৗরসভা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার সহযোগী ও সহপাঠিরা বৃহস্পতিবার ভোরে আমার দখলীয় জমি থেকে ৩টি দোকানপাট ভেঙ্গে দোকানে থাকা ফার্নিচারের মালামাল, রিক্সা গ্রেজ এর মালামাল ও চায়ের দোকানের মালামাল সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। আমার প্রায় ৮ কোটি টাকার জমি জবর দখল করেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
শরীয়তপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পৗরসভা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি ৩১০১ নং দাগের জমি ক্রয় করেছি।টিটু ও তার মা কামরুন্নাহার আমার জমিতে দোকানপাট তুলে ব্যবসা বানিজ্য করছে। বার বার দরবার করে তাদেরকে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারনের জন্য বলা হলে ও তারা কোন তোয়াক্কা করছেনা। তাই আমি আমার জায়গা থেকে ঘর সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় ভাবে পরিমাপ করে আমার জমি আমাকে সীমানা দিলে যদি প্রতিপক্ষের কোন ক্ষতি হয় । তবে আমি পূরন করে দিব।
পালং মডেল থানার ওসি মোঃ আকতার হোসেন বলেন, ঘর ভাংগার খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি এখানে ঘর দরজা ভাংগা শেষ । মালামাল ও নেই। কাউকে না জানিয়ে জোর পূর্বক ঘর ভাংগা ঠিক হয়নি । আমি ঊভয়ের কাগজপত্র দেখে পরিমাপ করে মীমাংসা করে দিতে চেষ্টা করবো। মীমাংসা করতে ব্যর্থ হলে যদি পক্ষ অভিযোগ করে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।