সখিপুরে এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

সখিপুরে এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২


ভেদরগঞ্জে জমিজমা বিরোধের জের ধরে আনোয়ারা বেগম নামে এক নারীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছেবলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে আহত অবস্থায়
উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে । সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ভাইরাল হয়েছে। আহত আনোয়ারা বেগম ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার ছাদিম আলী সরদার কান্দি গ্রামের মেছের সরদারের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরকুমারিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার ছাদিম আলী সরদার কান্দি গ্রামের মেছের সরদারের স্ত্রী আনোয়ারার বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের নাজিমুদ্দিন সরদারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরধরে গত রোববার সকালে আনোয়ারা জমিতে পাট কাটতে গেলে নাজিমুদ্দিন সরদার ও তার ৭ ভাইসহ ১৫/২০ জন আনোয়ারার ওপর হামলা চালায়। এরপর বাড়িতে নিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারা বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারেআনোয়ারা বেগমের মেয়ে তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সখিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় খোকন সরদার ও বাছেত সরদার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সখিপুর থানা পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৭ আসামি পলাতক রয়েছে।
নির্যাতিতা আনোয়ার বেগমের মেয়ে বাদী তানিয়া আক্তার বলেন, পাট কাটতে যাওয়ায় আমার মাকে পানিতে চুবিয়ে বাড়িতে নিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছে। পরে মাকে উদ্ধার করতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেই। খবর পেয়ে সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাকে উদ্ধার করে এবং শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগেও হামলাকারীরা অনেক বার আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইলে কল দিলে তার বন্ধ পাওয়া যায়।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারা নামে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ৯জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজন আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply