জাজিরায় জমি সংক্রান্ত  বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ.আহত-১০

জাজিরায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ.আহত-১০


জাজিরায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে হাতবোমার বিস্ফোরনে দু’পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে।বুধবার রাতে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত সজিব মুন্সী (২৫) । তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের আহতের মধ্যে রয়েছে জাকির হোসেন (৩৫), মিলন মিয়া (৪৫), আক্কাস শেখ (৫০), জয়নাল মাল (২৩), রনি পেদা (৩৫), শহীদ খা (২৬)। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মিয়া চান মুন্সীকান্দির গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই অপু ও অনিকের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ঝগড়া হয়।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দুই পক্ষের লোকেরা শত শত হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বোমার আঘাতে সজিব মুন্সী নামে একজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেরণ করা হয়েছে।
বিলাসপুর এলাকার মতিন বেপারী বলেন, বোমা বিস্ফোরণের শব্দে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ভীত হয়ে পড়ে।
পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী জলিল মাদবর বলেন ,গত মঙ্গলবার জমি নিয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের দ্বন্দকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পরে কুদ্দুস বেপারীর লোকজন বাড়িঘর লুটপাট করে। এ সময় একজনের হাত ও ভেঙে দেওয়া হয়। বুধবার রাতে কুদ্দুস বেপারী নিজে তার লোকজন নিয়ে এসে হাতবোমা মারে। বোমার আঘাতে আমার সমর্থক সজিব নামের একজনের নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। আমি তাকে নিয়ে ঢাকায় আছি।
বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বেপারীর বলেন, মহর খার কান্দি নামে একটি গ্রাম আছে। ওখানে বসে আমার ৫-৬ জন লোক চা খাচ্ছিল। তখন জলিল মাদবরের পক্ষের একদল লোক বোমা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে আমার লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। যতটুকু জানতে পেরেছি, ধাওয়া দিতে গিয়ে জলিল মাদবর গ্রুপের ওই লোকটা বোমা নিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। পরে নিজের কাছে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে সে আহত হয়। আমার সমর্থক গিয়াস উদ্দিনের বাড়িসহ ১০টি বাড়িতে হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লুট করা হয়েছে। আহত গিয়াস উদ্দিন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জলিল মাদবরের সমর্থক রতন মাদবর বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় মামলা করেছেন । বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সামচুল হক নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ।
অতিরিক্ত সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আহসান হাবীব বলেন, বিলাশপুরে হাতবোমা বিস্ফোরণে আহতের ঘটনার সত্যতা রয়েছে। ওই এলাকায় প্রতিদিনই পুলিশের ২/৩ টিম মোতায়ন থাকে। পুলিশ যদি মোতায়ন করা না থাকত, তাহলে হয়ত আরও সংঘর্ষ হতো।

Leave a Reply