শরীয়তপুর প্রতিনিধি \ নড়িয়ার যুবদল নেতাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে জঙ্গি হিসেবে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে সাবেক কাউন্টার টেরোরিজম (সিটিটিসি) প্রধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হচ্ছেন কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আতিকুর রহমান এবং সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে মামলার বাদী নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর (৪৭) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার মতিউর রহমান সাগর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) ৫ জনকে আসামি করে পিটিশন দায়ের করলে আদালত তিন আসামিকে আমলে নিয়ে মতিঝিল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।
মামলার আবেদনে বাদী অভিযোগ করেছেন যে ২০২২ সালের ১৮ মে দুপুর ২টার দিকে বাদীকে মতিঝিল হোটেল শাকিল ইন্টারন্যাশনাল থেকে জোর পূর্বক তুলে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে নিয়ে গিয়ে ৭ দিন পর্যন্ত যুবদল নেতাকে ব›ীদ করে রাখা হয় এবং নির্যাতন করা হয়। এ সময় আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা বাদীর কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে জঙ্গি হিসেবে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে জীবন বাঁচানোর জন্য বাদী তার ম্যানেজার মাসুদ দেওয়ানের সহযোগিতায় বিগত ওই বছরের ২২ মে সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের কাছে ৫০ লাখ টাকা তুলে দেয়। বাকি ৫০ লাখ টাকা চাঁদার টাকার জন্য আসামিরা ২৪ মে পর্যন্ত মিন্টো রোডের টর্চার সেলে বাদীকে আটকে রেখে নির্যাতন করে। সে সময় বাদীর নিখোঁজের খবর পেয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি প্রেস ব্রিফিং করলে আসামিরা যুবদল নেতাকে নড়িয়া থানায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর বাকি ৫০ লাখ টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন করে এবং শরীয়তপুর আদালতে একটা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান করে। যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান করা হয়, সে মামলাটি সংঘটিত হওয়ার সময়ে তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ-হজ পালনের জন্য ছিলেন এবং ওই ঘটনা নিয়ে সে সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিউজ ছাপা হয়।
একপর্যায়ে তাকে চাঁদার জন্য শেরইবাংলা নগর থানায় একটা জঙ্গি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টের রিট দায়েরের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা মতিউর রহমান সাগর বলেন, আমাকে অন্যায় ভাবে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনে আমার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আমার জীবন বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। আমি এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার চাই।