শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালুই এখন আ’লীগের নেতাকর্মীদের আস্থার ঠিকানা !

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালুই এখন আ’লীগের নেতাকর্মীদের আস্থার ঠিকানা !

Social Share Now
শরীয়তপুর : শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুই এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর আশ্রয়স্থল হয়ে দাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ বিএনপিতে অনুপ্রবেশের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে শরীয়তপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দলীয় সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে এসব কর্মকান্ড করায় সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। এ সুযোগে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বেশ কিছু নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও তার তোয়াক্কা করছেনা শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট বিকালে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নে প্রয়াত বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন জমাদ্দারের ছেলে জাজিরা উপজেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি নাজমুল জমাদ্দারের বাড়ির উঠানে এক বিশাল সমাবেশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল গোমস্তার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সহ-সভাপতি শাহ মো. আবদুস সালাম, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাজিরা উপজেলার সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আবদুল করিম আক্কাস, সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল আলম টিটু আকন, জাজিরা উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক আহবায়ক মাজাহারুল ইসলাম রনি নাওডোবা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আলমগীর সরদার সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক পারভীন শিকদারের ভাই ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিন শিকদার, মিলন খান, নাওডোবা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল হাওলাদারের পিতা আওয়ামীলী নেতা হাকিম হাওলাদার, সামাদ হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বকুল চোকদারের পিতা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ চোকদার সহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও বিএনপি নির্যাতনকারী একটি গ্রুপ।
এঘটনায় পুরো শরীয়তপুর জুড়ে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কালু সরদারের কাছে শরীয়তপুরের বিএনপি সুরক্ষিত নয়। অবিলম্বে
তাকে দল বহিষ্কার করার করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ এবং সাধারন সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, সাবেক জিপি হেলাল উদ্দিন আকন্দের ছবি ব্যবহার আওয়ামীলীগ বেশ কিছু নেতাকর্মী ফেস্টুন ব্যানার সাটিয়ে প্রচার করায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির দুঃসময়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু একজন সুবিধাবাদী লোক। সে ছাত্রলীগের থেকে জাতীয় পার্টি হয়ে বিএনপিতে এসেছে। কোনো দলই করা বাকি রাখেন নাই তিনি। সে বিএনপির জন্য একটি অভিশাপ। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন জনের থেকে অনেক টাকা চাঁদা নিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে শরীয়তপুরের বাইরে অবস্থান করতো। এছাড়া শরীয়তপুরে আসলে আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে চলতো। তাই তার নামে কোন মামলা হতোনা। তার কারণে শরীয়তপুরে বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়েছে৷ তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষতো আছেই এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত। আমরা তার বহিষ্কার দাবি করছি।
জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারন সম্পাদক জেলা বিএনপির সদস্য হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টু বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করে আওয়ামীলীগের লোকজনদের কে নিয়ে কালু সরদার মিটিং করে দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আমরা এবিষয়ে জরুরী তদন্ত করে দলীয় ব্যবস্থা নিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু (০১৭১৫-০৬৯৬৭৭ বার ফোন করলে ও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের যেকোনো অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। এর বাইরে গিয়ে কেউ অনুপ্রবেশ বা আওয়ামী লীগের কর্মীদের আত্মীয় পরিচয়ে কোনো সহযোগিতা করলে কঠোর ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply