উভ/শর্ট ॥ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুনুল হক বলেছেন অনেকগুলো আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষদের লড়তে হয়েছে। ১৯০ বছরের বিটিশ বিনিয়াদিদের আধিপত্যবাদ মধ্যখানে প্রায় শতবর্ষ কলিকাতার দাদা বাবুদের জমিদারী এবং দিল্লীর আধিপত্যবাদ , পিন্ডির খান পাঠানদের আধিপত্যবাদ,তিনটি আধিপত্যবাদদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলার লাল সবুজের পতাকা অর্জন করতে পেরেছি। ১৪ বছর এদেশের মানুষ শাসিত হয়েছে ভিনদেশীদের মাধ্যমে।কখন ও শাসন করেছে ইংরেজ বেনিয়া, কখনো শাসন করার চেষ্টা করেছে কলিকাতার দাদা বাবুরা,কখনো শাসন করেছে পিন্ডির খান পাঠানেরা। আর এ ২১৪ বছর এ দেশের মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এদেশের মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এদেশের মানুষের উপর গোলামীর জিজ্ঞির চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তাই বাংলাদেশের মানুষ একের পর এক সংগ্রাম ও লড়াই করে অবশেষে ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র বাংলাদেশ অর্জন করার মধ্য দিয়ে তারা মনে করেছিল এক বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা আশায় বুক বেধেছিল যে এবার বাংলাদেশের মানুষ বৈষম্যের শিকার হবেনা। মানুষ তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় পরিতাপের বিষয় ১৯৭১ সালেল ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ দীর্ঘ ৫৫ বছরের ইতিহাস এ সময়টা আমরা যা দেখতে পাই বিচার বিশ্লেষন করলে শুধু বলতে হয় শাসকের ধরন বদলেছে। শাসকের শাসনের নামে শোষনের ধরন বদলায়নি। আগে শোষন করতো বিদেশীরা বিগত ৫৫ বছর শোষন করে দেশী শাসকরা। আগে বিদেশীরা এদেশ থেকে সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যেত । এরপর থেকে এদেশের শাসকেরা আমার দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে বিদেশে গিয়ে বেগম পাড়া বানায়। কয়েক বছরে ২৮কোটি টাকা এদেশ থেকে পাচার হয়েছে। এ হলো বাংলা দেশের অবস্থা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলে ও এখনো পর্যন্ত এ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। আমরা ১১দল ঐক্য হয়েছি আমার বাংলাদেশ থেকে আর কোন সম্পদ লুটপাট করতে দিবোনা। চুরি বাটপারের
রাজনীতি বাংলাদেশে থেকে বিদায় করা হবে। এটাই ছিল আমাদের বিপ্লবের স্বপ্ন। জুলাই বিপ্লব হলো বাংলাদেশের মানুষ যখন এক রকম হতাশ হয়ে পড়েছিল আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির কাছে যখন পরাস্ত নিরাশ হয়ে পড়েছিল । ৪কোটি ছাত্র জনতা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে রাজপথে নেমে আসলো। দেড় সহ¯্রাধিক মায়ের কোল খালি হলো। দেড় সহ¯্রাধিক দামাল সন্তানের তাজা রক্তে বাংলার মাটি সিক্ত হলো। ৩০ হাজারের বেশী মানুষ বুলেটবিদ্ধ হয়ে বাংলার প্রান্তে প্রান্তে ধুকে ধুকে জীবন কাটাচ্ছে ।মামুনুল হক বলেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে সারা দেশে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। একাত্তরে জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের যে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেখানে মানুষের অভিপ্রায় ছিল অধিকার ও ভাগ্যের পরিবর্তন। কিন্তু স্বাধীনতার পর কায়েমি স্বার্থবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো শাসনের নামে শোষণ করেছে এবং গুন্ডামি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছে। মামুনুল হক আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশের মানুষ আর সেই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আজ সবাই বিশ্বাস করে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গঠিত হয়েছে ১৮ কোটি মানুষকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য নয়, বরং শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের জন্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক উল্লেখ করে সেদিন সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দেয়ার এবং রিকশা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার নির্দেশ দেন । তিনি নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ সম্পর্কে বিলেন এটি মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক।
তিনি সোমবার রাত ৯টায় শরীয়তপুর পৌর অডিটোরিয়াম মাঠে ১১ দলীয় জোটের শরীয়তপুর-১ আসনের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহামদ (রিক্সা) সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেছেন। শরীয়তপুর জেলা জামাত এর আমীর আবদুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে ও মোঃ মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহামদ ,শরীয়তপুর জেলা জামাত এর সাবেক আমীর মাওলানা খলিলুর রহমান , জামাত নেতা ড. মোশারফ হোসেন মাসুদসহ ১১দলীয় নেতৃবৃন্দ।