শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর আউয়াল ঢালি বাড়ি (বিলের ঢালি বাড়ি) জমিজমা বিরোধের জের ধরে ভাড়াটিয়া ৭/৮টি মোটরসাইকেল যোগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাবে ভাংচুর ,লুটপট করে বাড়ির দরজা জানালা স্টীল আলমারী ওয়াডড্রোপ, ফ্যান ,চেয়ার টেবিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করে। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময় ঘরে আগুন দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে মামলা করলে পরে এসে মহিলাদের কে অত্যাচার করবে। ভয়ে বাড়ির মহিলারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় শরীয়তপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছে ভুক্ত ভোগীরা।
বাদী মুন মুন আকতার ও মামলার বিবরনে জানাযায়, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর আউয়াল ঢালি বাড়ি (বিলের ঢালি বাড়ি)র সামাদ ঢালি, রাসেল ঢালি ও আকতার ঢালি দীর্ঘদিন যাবত ইতালী ও ওমান বসবাস করেন। তাদের বাড়িতে মহিলা ও শিশু ছাড়া কোন পুরুষ লোক থাকে না। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাত অনুমান সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে জমি জমা বিরোধের জেল ধরে স্থানীয় রাজিব মৃধা ও তামান্না আকতার এর নেতৃত্বে ৭/৮টি ভাড়াটিয়া মোটর সাইকেলযোগে ১৩/১৪ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র লাঠিসোটা ,চাপাতি ,রামদা,হকিস্টিক ,ছেনদা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে মহিলাদেরকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। এ সময় ঘরের মালামাল স্টীল আলমারী ওয়াডড্রোপ, ফ্যান ,চেয়ার টেবিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র দরজা জানালা ভাংচুর ও তছনছ করেছে। এক পর্যায়ে ঘরের বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ত্রাসী হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা নারী রুপা বেগম, নাদিয়া বেগম, মুন মুন আকতার কে মারধর করে। তারা আলমারীর চাবি নিয়ে স্টীল আলমারী থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৮ভরি স্বর্নালংকার লুটে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৩ লাখ টাকা। এ সময় বাড়ির মহিলারা আত্নচিৎকার করতে চেষ্টা করলে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখায়। হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলে যায় কোন মামলা করলে পরবর্তীত এসে মহিলাদেরকে অত্যাচার করবো। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন এসে ঘটনা দেখে নড়িয়া থানাকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা পায়।ব র্তমানে বাড়ির মহিলারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। উপায়ান্ত না পেয়ে মঙ্গলবার শরীয়তপুর আদালতে রাসেল ঢালির স্ত্রী মুনমুন আকতার বাদী হয়ে শরীয়তপুর আদালতে ৪ জনকে চিহ্নিত ও ১৩/১৪ অজ্ঞাত আসামী কওে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে ওসি নড়িয়া থানাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছেন।
এ ব্যাপারে আহত নাদিয়া আকতার বলেন, জমি জমা বিরোধের জেল ধরে রাজিব মৃধা ও তামান্নাগংরা আমাদের বাসাবাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। গত ১ নভেম্বর রাত অনুমান সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ৭/৮টি মোটর সাইকেল যোগে ভাড়াটিয়া ১৩/১৪ জন সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর,লুটপাট করে ঘরের মালামাল ও আসবাবপত্র তছনছ করে।এ সময় ৮ভরি স্বর্নালংকার ও ২লাখ টাকা নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা হুমকি দিয়ে বলে যে মামলা করলে পরে এসে মহিলাদেরকে অত্যাচার করবে। আমরা এ বিচার চাই।
রুপা বেগম বলেন, সন্ত্রীদের ভয়ে এখন আমরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।