নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের ১৪ নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপনকে অপসারন এখন গনদাবীতে পরিনত হয়েছে। দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরনসহ নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে । প্রধান শিক্ষকের অপসারনের জন্য সহকারী শিক্ষক,অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আওয়ামীলীগের নতৃবৃন্দ শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন । এ সব বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রধান শিক্ষক অনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কতৃপক্ষ বলছেন তদন্ত প্রতিবেদন শীঘ্রই উর্দ্ধতন কতৃপকেক্ষর নিকট দাখিল করা হবে।
সরেজমিন ঘুরে ও নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগন জানান, নড়িয়া উপজেলার ১৪নং নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন এর অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় আমরা সহকারী শিক্ষকগন অতিষ্ঠ। সে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কতৃপক্ষের বিনানুমতিতে অত্রবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাশ চালু করেছে। এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগন ৬ষ্ট থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণী পাঠদান করতে ইচ্ছা পোষন করতে না চাইলে তাদেরকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দিচ্ছেনা। শিক্ষকদেরকে শিক্ষক অফিস কক্ষে বসতে দেয়না। বিদ্যালয়ের জন্য প্রতিবছর যে উন্নয়ন বরদ্দ আসে সে একক সিদ্ধান্তেই খরচ করে থাকেন। সহকারী শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ করেনা। কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ তা জানায় না। জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষকদেরকে স্যান্ডেল দিয়ে মারতে আসে। উন্নয়নের বরাদ্দের টাকা খরচ না করে নিজেই আতœসাৎ করছে। এ কারনে বিদ্যালয়ে শিশুদের কক্ষে কোন উপকরন নেই। কখনো কোন কিছু কেনা কাটা করলে ২/১ দিন পরে বাসায় নিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের পানি খাওয়ার কলসটা পর্যন্ত তার বাসায়। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল নিতে শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ টাকা আদায় করে। বই বিতরন কালে শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ টাকা আদায় করে।সে অত্র বিদ্যালয়ের পুরাত স্কুলটি বিক্রি করে টাকা আতœসাৎ করেছে। বিদ্যালয়ের সীমানা থেকে ২টি মূল্যমান কড়াই গাছ ৮২ হাজার টাকা বিক্রি করে আতœসাৎ করেছে। বিদ্যালয়ের অবিতরনকৃত বই বাজারে বিক্রি করে নিজেই টাকা আতœসাৎ করেছে। সহকারী শিক্ষকদেরকে কোন ছুটি দেয়না। ছুটি চাইলে বলে মেডিকেল ছুটি নিতে। দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক এমনি ভাবে বিদ্যালয় চালিয়ে আসছেন। কেই কোন প্রতবাদ করতে পারছেনা। উপায়ান্ত না পেয়ে ৬ জন সহকারী শিক্ষক মোকসেদা বেগম,মাহমুদা হাসিয়া, আয়শা আকতার, স্বর্ণালী,তানজিয়া আকতার, নাতাশা আকতার রিনথী,য়ৌথ স্বাক্ষর দিয়ে নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ সকল ঘটনা উল্লেখ করে স্থানী অভিভাবকগন গনস্বাক্ষর দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রধান শিক্ষকের অপসারন চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়িয়া উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইকবাল মনসুর ও দ’ুজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন কে সাথে নিয়ে গত ২৪ আগষ্ট সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় স্থানীয় শতাধিক অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকগন অভিযোগের বিষয় প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে কতৃপক্ষের নিকট তুলে ধরেন। তারা সবাই প্রধান শিক্ষক কে নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় থেকে অনতি বিলম্বে অপসারন দাবী করেন।
এ ব্যাপারে নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিঃ সহকারী শিক্ষক মোকসেদা বেগম,মাহমুদা হাসিয়া, আয়শা আকতার, স্বর্ণালী,তানজিয়া আকতার, নাতাশা আকতার রিনথী বলেন,প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন দীর্ঘদিন যাবত এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালে নানা রকম অনিয়ম, দুর্র্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। আমরা নিরবে সহ্য করে আসছি। সে কতৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ৮ম শ্রেনীী পর্যন্ত ক্লাস চালু করেছে। সেখানে আমাদেরকে বিনা পয়সায় শ্রম দিতে বলে।আমরা রাজি না হওয়ায় আমাদেরকে অফিস কক্ষে ঢুকতে দেয়না। আমাদের কোন ছুটি চাইলে ছুটি দেয়না। বলে মেডিকেল ছুটি নিতে। বিদ্যালয়ের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকা খরচ না করে নিজে আতœসাৎ করে। পুরাতন
ভবন বিক্রি করে সমস্ত টাকা আতœসাৎ করেছে।বিদ্যালয় েেথকে ২টি কড়াই গাছ বিক্রি করে টাকা আতœসাৎ করেছে।সে বই বিতরনে ও রেজাল্ট সিট দিয়ে টাকা নিয়ে থাকে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমদের তেড়ে আসে। সে ম্যানজিং কমিটির কাউকেই পাত্তা দেয়না। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাতিদের মারপিট করে। তাদের সাথে ও খারাপ আচরন করে।এহেন অবস্থায় আমরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে অভিভাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মাঝি বলেন, প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন একজন দুর্নীতি পরায়ন লোক । শিশুদের উপর নির্যতন করে। বিদ্যালয়ের বরাদদ্দের টাকা পয়সা আতœসাৎ করেছে। গাছ বিক্রি করেছে। সে বই দিয়ে রেজাল্ট সিট দিয়ে টাকা নেয়। তার আচার আরন খারাপ। আমরা তার অপরসারন চাই।
অভিভাবক তোতা ছৈয়াল বলেন, প্রধান শিক্ষক একজন বেয়াদব ও দুর্নীতিবাজ লোক। তার আচরন খারাপ। সে শিশুদেরকে মারপিট করে। শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন করে। তার চরিত্র ভালনা। আমি তাকে এ বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলীর জন্য কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাই।
নশাসন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষক একজন বড়ধরনের দুর্নীতিবাজ। সে কাউকে পরোয়া করেনা। নারী শিক্ষকদের সাথে খুব খারাপ আচরন করে। পুরাতন বিদ্যালয় ভবন বিক্রি করে টাকা আতœসাৎ করেছে। গাছ বিক্রি করে টাকা আতœসাৎ করেছে। বিদ্যালয়ের বরাদ্দের টাকা খরচ না করে আতœসাৎ করে। শিশুদের সাথে খারাপ আচরন করে। আমার কাছে অভিযোগ আসার পর আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেছি। সে কারো কথা শুনেনা। তাকে বদলী না করা হলে যেকোন সময় এলাকায় রক্তক্ষী ঘটনা হতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার মান ব্যাহত হবে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমি স্কুলের প্রধান।যতদিন এ স্কুলে আছি ততোদিন আমি এ স্কুলের প্রধানমন্ত্রী। স্কুল চালাইতে গিয়ে কিছুটা ভুল ত্রæটি হতে পারে। তবে আমি ও এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিব।
নড়িয়া উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইকবাল মনসুর বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। সেখানে অভিভাবক ,সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। আমি অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবো।