শরীয়তপুর জেলার ৬ টি উপজেলার ৬৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কেনা কোটি কোটি টাকার ডিজিটাল হাজিরা মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোন কোন বিদ্যালয়ে বরাদ্দ পেয়ে ও মেশিন লাগানো হয়নি। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে । ব্যবহার না করায় বিকল হয়ে পড়েছে অধিকাংশ মেশিন। নিম্মমানের মেশিন ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবী জাতীয় ভাবে ব্যবহার না হওয়ায় আমরাও ব্যাবহার করিনা । তাই মেশিন গুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
পালং তুলাসার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪ নং নশাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ৫৬ নং পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন গুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শুধু এ সকল বিদ্যালয়েই নয় পুরো শরীয়তপুর জেলার ৬৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কেনা প্রায় দেড় কোটি টাকার ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। শিক্ষকদের সময়মত বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য এসব মেশিন বসানো হয়েছিল। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের হাজিরা মেশিন ই নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কক্ষে হাজিরা মেশিন গুলো স্থাপন করা হয়। বাৎসরিক শ্লিপ ফান্ডের খরচ থেকে ১৮ হাজার ৫ শত থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যায় করে এসব মেশিন বসানো হয়েছিল।
শরীয়তপুরের ৬ টি উপজেলার ৬৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরা মেশিন
পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে তা বসানোর নির্দেশ দেয়।জেলার সব বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসানোর জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। যাতে শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়। বর্তমানে সব মেশিন নষ্ট। তাই সরকারের সে কর্মসুচী পুরোটাই ভেস্তে গেছে।
শরীয়তপুর সদর পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা বেগম বলেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন টি পুরাতন ভবনে বসানো আছে। এখন আমরা নতুন ভবনে কাজ করি। সেটি কেমন আছে বলতে পারবো না, বিষয়টি পুরুষ শিক্ষকরা বলতে পারবে।
নশাসন প্রাথমিক বিদ্যারয়ের সহকারী শিক্ষক মোরশেদা বেগম বলেন, আমাদের স্কুলে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ আসলেও আমাদের স্কুলে এথনো সেটি কিনা হয়নি।
নড়িয়া উপজেলার দিগম্বর পট্রি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনুর আক্তার বলেন, ২০১৮ / ১৯ অর্থ বছরে আমাদের স্কুলে শ্লিপের ৪০ হাজার টাকা থেকে এ ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনার কথা ছিল। বিদ্যুৎ না থাকার কারনে আমি সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডামুড্য, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা বলেন, জেলার সব বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসানোর জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। যাতে শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়। বর্তমানে সব মেশিন নষ্ট। তাই সরকারের সে কর্মসুচী পুরোটাই ভেস্তে গেছে।
পালং তুলাসার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমদাদুল হক বলেন, আমাদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি একটি কক্ষের দেয়ালে বসানো আছে। জাতীয় ভাবে ব্যবহার না করার কারনে আমরাও ব্যবহার করিনা। তাই মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে দেরি করেন। অনেকে দুপুরে ছুটি দিয়ে দেন। এ জন্য যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সফলতা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন,আমি এ জেলায় নুতন যোগদান করে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিভিন্ন সরকারী কর্মসূচী পালনে ব্যস্ততার জন্য এখনো কোন ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমি তদন্ত করে কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব।