গোসাইরহাট প্রতিনিধি। ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ মে। গোসাইরহাট উপজেলায় প্রার্থীদেও বিরুদ্ধে তথ্য গোপন সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার। অভিযোগের উঠছে গোদ রিটার্নিং অফিসারের দিকে ও।
জানা যায়, গত ৫ মে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়। যেখানে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, সেখানে নির্বাচনী বিধি মোতাবেক গোসাইরহাটের দুইজন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। তথাপিও রিটার্নিং অফিসার মোশারফ হোসেন সরদার ও জাকির হোসেন দুলালের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।একই অভিযোগ মাসুদ আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন তার হলফনামায় একাধিক মামলার তথ্য গোপন করেছেন। সে গুলো হলো (১)২০০২ সালের মোহাম্মদপুর থানায় দন্ড বিধি ৩০২/৩৪ অনুযায়ী মামলা নং-৩৯/২০০২। (২) ২০০৬ সালের তেজগাঁও থানায় অস্ত্র আইনের ধারা ১৯ (ক) অনুযায়ী জি আর নং-৭৯৮/২০০৬। (৩) ২০০৪ সালের মিরপুর থানার দন্ড বিধি ৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ দন্ড বিধি অনুযায়ী জি আর নং- ৮২/২০০৪। (৪)২০০৪ সালের সবুজবাগ থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ৯(৩) ধারা, জি আর নং-৪০২/২০০৪ সহ আরো অনেক মামলা। অপর প্রার্থী জাকির হোসেন দুলালও তার হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করেছেন। তিনি ও ২০১৯ সালের গোসাইরহাট থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ (এ) অনুযায়ী এফআইআর -০৭/৩৫। এ মামলা গুলো ছাড়াও এই দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা সংক্রান্ত সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলালের এতগুলো মামলা থাকা সত্তে¡ ও তারা তাদের হলফনামায় ইচ্ছাকৃত মামলার তথ্য গোপন করেছেন, যা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৭ এর উপ-বিধি (৩) দফা (ঙ) এর পরিপন্থি। যেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সাথে হলফনামা দাখিলের বিধান রয়েছে এবং মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলাল তাদের হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, সেহেতু নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা । এই ঘটনা প্রকাশের পর গোসাইরহাটে ভোটার ও অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলার জনৈক ভোটার দেলোয়ার হোসেন তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোটের আগেই তারা অনিয়ম করেছে , তাদের কাছ থেকে গোসাইরহাট বাসী ভবিষ্যতে ভাল কি আশা করতে পারে।
অপর একজন ভোটার আল-আমিন দাবি বলেন,এতগুলো মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের মনোনয়নের বৈধতা অতিসত্ত¡র বাতিল করা হোক এবং বৈধ্য প্রার্থীদের নিয়েই সুষ্ঠ ভোট অনুষ্ঠিত হোক। এছাড়াও সাধারণ মানুষের আলোচনায় সুষ্ঠু ভোট না হওয়ার শঙ্কা প্রকট হচ্ছে।
গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান ্য প্রার্থী মাসুদ আলম বলেন, আমার হলফনামায় মাত্র একটি নিষ্পত্তিকৃত মামলার তথ্য না দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনার আমার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেছে। কিন্তু মোশারফ হোসেন ও জাকির হোসেন দুলাল এতগুলো মামলার তথ্য গোপন করেও কিভাবে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পায়? আমি আশাকরি আগামী আপিল শুনানীর দিনে নির্বাচন কর্মকর্তা সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবেন।
গোসাইরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ পুষ্পেন দেবনাথ বলেন,আমাদের থানায় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যে কয়টি মামলা সিডিএমএসএ আছে তাই আমরা উল্লেখ করেছি । অন্য থানায় মামলা সে টার বিষয় আমরা কিছু বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে রির্টানিং অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, প্রার্থীর মামলা কয়টা আছে সে বিষয় আমাদের তদন্তের কোনো প্রয়োজন পরেনা। পুলিশ থানা থেকে যে তথ্য উল্লেখ করেছে সেটাই এখানে প্রযোজ্য হবে।