মাঝিরঘাট ,লঞ্চে আয় কমলেও নাব্য সংকটে বেড়েছে ব্যয়

মাঝিরঘাট ,লঞ্চে আয় কমলেও নাব্য সংকটে বেড়েছে ব্যয়


কয়েক মাস আগেও প্রাণচাঞ্চল্য ছিল শরীয়তপুরের মাঝিরঘাটে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঘাটটি এখন মৃতপ্রায়। সারাদিনে ৮/১০ জন যাত্রী ও ৪,৬টি মোটরসাইকেল পারাপার করে কোনো রকম টিকে আছেন
লঞ্চ মালিকরা। কিন্তু পদ্মা নদীতে বিশাল চর পড়ায় দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট। ফলে লঞ্চগুলোকে ঘুরে যেতে হয় অনেক দূর দিয়ে। এতে গুনতে হয় বাড়তি খরচ ও। এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।এদিকে আয় কম অন্যদিকে ব্যয় বাড়ায় যে কোনো সময় লঞ্চ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল তৈরি করে নাব্যতা সংকট সমাধানে আহ্বান জানিয়েছেন যাত্রী, ঘাট ইজারাদার ও লঞ্চ মালিকরা। মাঝিরঘাট সূত্রে জানা যায়, পদ্মাসেতু চালুর আড়াাই মাস পর পুনরায় শুরু হয় শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট-শিমুলিয়া নৌরুটে লঞ্চ পারাপার। এক সময় প্রতি লঞ্চে ১৫০-১৭০ জন যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করতো প্রতিটি লঞ্চ। এরইমধ্যে যাত্রী সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে স্পিডবোট ও ট্রলার। বর্তমানে এ রুটে সর্বোচ্চ ১০ জন যাত্রী, আর ৪,৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে মাত্র ৩টি লঞ্চ যাতায়ত করে প্রতিদিন। এতে কোনোরকমে চলে লঞ্চ চালক ও স্টাফদের সংসার। অন্যদিকে মালিকপক্ষ লোকসান গুনছে দিনের পর দিন। পদ্মাসেতু সংলগ্ন এলাকায় লঞ্চ চলাচলের চ্যানেলটি আটকে চর পড়েছে মাইলের পর মাইল। নাব্যতা সংকটের কারণে লঞ্চগুলোর এখন ৩৫ মিনিটের জায়গায় দেড়ঘণ্টা সময় লাগছে। ফলে আয় না বাড়লেও বেড়েছে ব্যয়।
শহীদ হোসেন, রবিউল আলমসহ কয়েকজন যাত্রী বলেন, আমাদের বাড়ি মাঝিরঘাট এলাকায়। তাই এ ঘাট দিয়ে লঞ্চে পার হয়ে ঢাকা যাই। বর্তমানে লঞ্চ অনেকদূর ঘুরে যায়। এতে সময় বেশি লাগে। তাই চিন্তা করেছি আগামীতে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যাবো।
লঞ্চ চালক মহিউদ্দিন, চাঁন মিয়া ও লঞ্চ স্টাফ আব্দুল আলী, রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন এ রুটে ১০জন যাত্রী, আর ছয়টির মতো মোটর সাইকেল পারাপার করি। এতে যে আয় হয় তাতে আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। শিখেছি এ কাজ, তাই অন্য কাজে মন বসে না।তারা বলেন, মাঝেমধ্যে লঞ্চ পদ্মার চরে আটকে যায়। তাই অনেক দূর ঘুরে শিমুলিয়া যেতে হয়। এজন্য লঞ্চে যাত্রী কম হয়।
লঞ্চ মালিক রুবেল খান বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে বন্ধ আছে মোটরসাইকেল যাতায়ত। জরুরি প্রয়োজনে তাই ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার করছে লঞ্চে। এছাড়া নাব্যতা সংকটের কারণে সময় বেশি লাগায় ধীরে ধীরে যাত্রী কমে যাচ্ছে। তাই আয় কম হচ্ছে, বেড়েছে ব্যয়। এমন অবস্থা থাকলে লঞ্চ বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সরকারের কাছে নাব্য সংকট সমাধানের দাবি জানাই।
মাঝিরঘাটের ইজারাদার মো. মোকলেছ মাদবর বলেন, নদীতে লঞ্চ চলাচলে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ঘুরে যেতে হয় অনেকটা দূর। আর সময়ও লাগছে বেশি। লঞ্চ চলাচলের জন্য সরকারিভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দ্রæত চ্যানেল তৈরি করলে যাতায়তে সুবিধা হতো। যাত্রীও বেশি আসবে

Leave a Reply