প্রতিষ্ঠার পর থেকে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত বুধবার (৩১ মে) গোসাইরহাট পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর আগামী ১৭ই জুলাই এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার সংবাদ পেয়ে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান মিন্টু বেপারীর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করেছে শতাধিক মানুষ। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাককে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।বুধবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে গোসাইরহাট পৌরসভার বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা নিয়ে পৌরবাসীর ভোগান্তি পৌচেছে চরমে ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মামলার মারপ্যাঁচে আটকে ছিল শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌরসভা নির্বাচন। পৌরসভার সঙ্গে সীমানা জটিলতায় ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ও হয়নি এক যুগের বেশি সময় ধরে। এসব কারণে বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৩ সালে তখন ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। এরপর ২০১১ সালের ৯ জুন ১৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গোসাইরহাট পৌরসভা গঠন করে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ঐ সময়ই ইদিলপুর ইউনিয়ন থেকে ৯টি মৌজা পৌরসভার সঙ্গে যুক্ত করার প্রতিবাদে মামলা করে স্থানীয়রা।আদালত গেজেট স্থগিতের নির্দেশ দিলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন শিকারী। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ১৩ বছর ধরে আটকে ছিল গোসাইরহাট পৌরসভা ও ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
ইতোমধ্যে মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন অনেকেই। এরমধ্যে মতিউর রহমান মিন্টু বেপারী, আবদুল আউয়াল সরদার, দেওয়ান মোঃ শাহজাহান, মোঃ বাবলু মৃধা, জাকির হোসেন দুলাল, আল আমিন সিকদার,সুজন হাওলাদার,জিয়া জমাদ্দার ও আলাউদ্দিন সরদার। তবে বিএনপি সমর্থিত প্রত্যাশীরা দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায়। এরমধ্যে কে হবেন প্রথম পৌর পিতা দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসি।