গোসাইরহাট পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনায় ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন নৌকার মেয়র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন দুলাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী(কম্পিউটার) জিয়াউর রহমান জামদার। ১৯ ও ২০ জুলাই বিকেলে গোসাইরহাট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহেল সামাদের কাছে পৃথক ভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেনতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ জুলাই নবগঠিত গোসাইরহাট পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আউয়াল সরদার (নারকেল গাছ প্রতীক) ৩ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। অপরদিকে নৌকা প্রতীকের জাকির হোসেন পান ২ হাজার ৯৯৫ ভোট এবং কম্পিউটার প্রতীকের জিয়াউর রহমান জমাদার পেয়েছেন ২হাজার ৯১ ভোট।
পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সোহেল সামাদ বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গোসাইরহাট পৌরসভার ৪ ওয়ার্ড ইদিলপুর আলিম মদ্রাসা মিত্রসেন পট্রি ,৫ইদিলপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় দাসের জঙ্গল ভোট কেন্দ্র, ৬নং ওয়ার্ড মহেশ্বর পট্রি সরকারী প্রাঃবিঃ ভোট কেন্দ্র, ৭ নং ওয়ার্ড দাসের জঙ্গল সরকারী প্রাঃবিঃ ভোট কেন্দ্র, ৮ বাগানবাড়ি সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র ও ৯ নং উত্তর হাটুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র। ভোটগ্রহণে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা অনিয়ম করেছেন ।অন্য সব কেন্দ্রে বিকেল ৪ টায় ভোট শেষ হলেও কটি ভেট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলমান থাকে। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সহায়তা পেয়ে অনিয়ম করেছেন। কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল নির্দিষ্ট একজনের পক্ষে নেয়ার জন্য সব কৌশল অবলম্বন করেছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। তাই ল্যাবটেস্ট সহ ইভিএম মেশিনের ভোট পুনঃগণনা করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানান তারা।
এ বিষয় জাকির হোসেন দুলাল বলেন, আমাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কা নিয়ে পাঠিয়েছেন গোসাইরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচন করতে। গোসাইরহাট পৌরসভা হলো আওয়ামীলীগের ঘাঁটি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে হলেও নির্বাচনের কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে আমার ৭,৮,৯ এ তিনটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা দিতে গড়িমসি করেছে দীর্ঘসময়। আর ভোটগ্রহণেও অনিয়ম করা হয়েছে। তাই আমি গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী আবেদন জানাচ্ছি। রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি। পুনরায় সঠিকভাবে ভোট গণনা করা হলে নৌকার বিজয় হবে ইনসাআল্লাহ।
জিয়াউর রহমান জমদার বলেন, গোসাইরহাট পৌরসভা হলো আওয়ামী বিদ্বেষী ভোটার বেশী। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে হলেও নির্বাচনের কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাআওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীর আউয়াল সরদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে আমার ৪,৫,৬,৭,৮ও ৯ এ কটি ভোট কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা দিতে গড়িমসি করেছে দীর্ঘসময়। আর ভোটগ্রহণেও অনিয়ম করা হয়েছে।আমি আবেদন করেছি ল্যাবটেস্টসহ ইভিএম মেশিনের ভোট পুনঃগণনা করে গেজেট প্রকাশের জন্য।
অভিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহেল সামাদ বলেন, অভিযোগ আমাদের কাছে দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং রায় দেবে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল। গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরে তাদের মামলা করতে হবে। পরবর্তীতে আদালত পুনঃগণনার নির্দেশ দিলে তখন দেখা যাবে কী হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী গোসাইরহাট পৌরসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।