শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম আজাহার হোসেন এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে ৯জন মেম্বার অনাস্থা প্রস্তাব দিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে এখন ও ব্যবস্থা নেয়নি কতৃপক্ষ। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি চন্দ্র বিকাশ বলছেন এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তদন্ত করে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিবরনে ও পালং ইউনিয়নের মেম্বারগন জানায় পালং ইউনিয়নের মেম্বারগন গত বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এক লিখিত অভিযোগে পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের (বহিস্কৃত ) সদস্য কেএম আজাহার হোসেন এর বিরুদ্ধে হোল্ডিং ট্যাস্ক ,বয়স্কভাতা ,প্রতিবন্ধী ভাতা ,সহ সরকারের নিধাতি কার্যক্রম মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে নিজে একে ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে করে থাকেন। সে ইউনিয়ন পরিষদের
কোন মিটিং ডাকেন না। সদস্যরা মিটিং করার জন্য অনুরোধ করলেও সে কোন মিটিং ডাকেনি। অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করেছেন যে হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আতœসাৎ করেছেন। এ অনাস্থা প্রস্তাবের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন পালং ইউনয়নের সংরক্ষিত ১.২.৩ ওয়ার্ডের মেম্বার মিনু আকতার, ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মেম্বার মালেকা বানু, ৭৮৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার শিরিন আকতার,১নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ সেলিম সেখ, ২নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মনসুর পেদা, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ছিদাম মোল্যা, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মকফর উদ্দিন সেক, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন সরদার, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান খান।
এ ব্যাপারে ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার মকফর উদ্দিন সেক বলেন, পালং ইউনয়নের চেয়ারম্যান কেএম আজাহার হোসেন হোল্ডিং ট্যাস্ক ,বয়স্কভাতা ,প্রতিবন্ধী ভাতা ,সহ সরকারের নিধাতি সমস্ত কার্যক্রম মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে নিজে একে ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে করে থাকেন। পরিষদের কোন মিটিং করেনা। আমরা মিটিং করতে অনুরোধ করলে ও সে করে না। সে হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আতœসাৎ করেছে। এ কারনে আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি।
৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান খান বলেন, আমাদের পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম আজাহার আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা ছাড়াই আমাদের সই স্বাক্ষর জাল করে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড আমাদেরকে দ্বার না করে তার আতœীয় স্বজন ও নিজের লোক দিয়ে করে থাকেন। আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি । আমরা তার অপসারন চাই।
এ ব্যাপারে ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন সরদার বলেন, আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। পরিষদের কোন বিষয়ে চেয়ারম্যান আমাদের মতামত নেয় না। তার ইচ্ছেমত যাচ্ছে তাই করছে।আমাদের বাদ দিয়ে সে সব কাজ নিজের লোক দ্বারা একক সিদ্ধান্তে করে থাকেন। আমরা তার এহেন কর্মকান্ডের অবসান চাই।
এ ব্যাপারে পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম আজাহার হোসেন কে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলে ও তিনি রিসিফ করেননি।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মেম্বারগন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শীঘ্রই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।