ভেদরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসময় সেবা গ্রহীতা এক শিক্ষিকার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অডিটর আশরাফ হোসেনকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদক সমন্বিত মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদক সূত্র জানায়, ১০৬ নম্বরে কল দিয়ে দুদকের কাছে অভিযোগ করেন ফরিদপুরের এক ব্যাংক কর্মকর্তা। তার স্ত্রী ভেদরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এলপিসির (শেষ বেতনের প্রত্যায়নপত্র) কাগজপত্র পেতে তাকে একমাস ধরে হয়রানি করা হয়। পরে বিকাশে দুই দফায় এক হাজার ও নগদ এক হাজার টাকা ঘুস নেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর আশরাফ হোসেন। এ অভিযোগের পরিপেক্ষিতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অভিযান চালায় দুদক। আশরাফ হোসেনের মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্টের অ্যাপে এক হাজার টাকার অসংখ্য লেনদেনের স্টেটমেন্ট পাওয়া গেছে। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের কাছ থেকেই বেশি ঘুস নিতেন।
দুদক সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন ঘুস নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এ ধরনের অপরাধ আর করবেন না শর্তে প্রাথমিক ভাবে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বিভাগীয় ভাবে বদলির সুপারিশের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আরিফুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বদলি করা না হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আগামীতে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা কার্যালয়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।