পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কে নির্মানের শরীয়তপুর-নাওডোবা ২৭ কিলোমিটার ডাবল লেনে উন্নতিকরন প্রকল্পের কাজ গত ৪ বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত কাজটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বহী কমিটি (একনেক) এ ১ হাজার ৬ শ ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহনসহ রাস্তা নির্মানের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২০ সালে প্রকল্পের প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়। সে হিসাবে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ভুমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ করতে পারেনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কের ২৭ কিলোমিটার রাস্তাটিকে ৩টি প্যাকেজে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয় । এরমধ্যে ৩টি প্যাকেজের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে । ভুমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ না হওয়া এবং দ্রব্য মুল্যের ঊর্দ্ধগতি ও আইনী জটিলতার কারনে অনেক জায়গায় এখন ও কাজে হাত দিতে পারেনি ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান। ফলে দুর্ঘটনা সহ চরম ভাবে বেড়েই চলছে জনদুর্ভোগ।সংশ্লিরা বলছেন মেঘা প্রকল্পের ভুমি অধিগ্রহনে একটু সময় বেশী লাগে।তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রæত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাযায়, ২০১৯ সালে শরীয়তপুর জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস থেকে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত কাজটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৬ শ ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহন সহ ডাবল লেন রাস্তা নির্মানের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজটি ২০১৪ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। ২০২০ সালে প্রকল্পের প্রশাসনিক কাজ শুরু করে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন। হিসাবমতে ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ভুমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ করতে পারেনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের ২৭ কিলোমিটার রাস্তাটিকে ৩টি প্যাকেজে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দরপত্র আহবান করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয় । ভুমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ না হওয়া এবং দ্রব্য মুল্যের ঊর্দ্ধগতির ও আইনী জটিলতার কারনে অনেক জায়গায় এখন ও হাত দিতে পারেনি ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান। ২৭ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনের জায়গা অধিগ্রহন করা হলেও রাস্তা নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের। এরমধ্যে ২৮টি ছোট বড় ব্রীজ নির্মান করা কথা রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কোটা পাড়া ব্রীজটি নির্মানের কাজটি ৫০ শাতাংশ শেষ হয়েছে। তবে অনেক ব্রীজের কাজ এখন ও শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।কাজিরহাট ব্রীজের তিনটি গর্ডার করে ফেলে রাখা হয়েছে। এখন কাজ বন্ধ।এ প্রকল্পের কাজ ৩বছর পেড়িয়ে গেলেও পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কের ভুমি অধিগ্রহনে কাজ শেষ হয়নি।কিছু কিছু জায়গায় সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সার্ভে করা, কোথাও ৭ ধারা, কোথাও টাকা ছাড় করানোর জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি প্রেরন করা হয়েছে। আবার কোথাও মামলা জটিলতার কারনে আটকে আছে অধিগ্রহন কাজ। ভুমি অধিগ্রহনের কাজ চুড়ান্ত করতে কয়েক ধাপ বাকী আছে। ভুমি বুঝে পাওয়ার পরই কাজ শুরু করার কথা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। তবে দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতির কারনে কাজ করতে গড়িমসি করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এদিকে শরীয়তপুর জেলা শহরের ফাযার সার্ভিস এলাকা থেকে জাজিরার টি এন্ডটি মোড় পর্যন্ত ১ম প্যাকেজের কাজে প্রেমতলা পর্যন্ত সাব বেইসসহ কাপেটিং এর কাজ করা হয়েছে। কোটা পাড়া ব্রীজের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। মাঝে মাঝে কিছু অংশে কাজ করা হলেও বাকী রয়েছে অধিকাংশ কাজ। ২য় ,৩য় প্যাকেজের জাজিরা এলাকা থেকে নাওডোবা পযর্ন্ত কিছু ব্রীজের কাজ অর্ধেক করে ফেলে রাখছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আবার কিছু এলাকায় রাস্তা প্রসসÍ করনের কাজ ভ্যাকু দিয়ে মাটি কেটে ফেলে রাখছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে মূল সড়কের কাজে এখন ও হাত দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ ৩বছর পেরিয়ে গেলেও এখন ও ডাবল লেন রাস্তা নির্মানের কাজ শেষ না হওয়ায় ও কাজের অত্যন্ত ধীরগতির কারনে শরীয়তপুরবাসী সরু রাস্তা দিয়ে , ভারী যান বাহনের অধিক চাপে পুরাতন জরাজীর্ন ও অপ্রশস্ত রাস্তা গুলো ভেংগে গিয়ে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। অহরহ ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগছে ৪ ঘন্টা। দুর্দশাগ্রস্থ শরীয়তপুর বাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনও। ফলে পদ্মাসেতুর সুফল বঞ্চিত হ”্ছে
জেলা বাসী।
শরীয়তপুর থকে ঢাকাগামী বাসযাত্রী, কামাল আহম্মেদ , রহিমা আফরোজ , ময়মন বেগম, ও নাজমা খাতুন বলেন, রাস্তার কাজ অত্যন্ত ধীরগতি হওয়ায় ঢাকা যেতে যেখানে আমাদের দেড় থেকে ২ ঘন্টা সময় লাগার কথা সেখানে আমাদের ৩ থেকে ৪ ঘন্ট সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে আমরা শরীয়তপুর জেলার মানুষ পদ্মাসেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
বাস চালক বিল্লাল হোসেন ও দবির ফরজী বলেন, সরু ও ভাংগাচুরা রাস্তার কারনে আমাদের গাড়ী চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা।
শরীয়তপুর জেলা পরিবহন মালিক গ্রæপের সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ তালুকদার বলেন, শরীয়তপুর – নাওডোবা পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কের নির্মান কাজ অত্যন্ত ধীরগতির কারনে আমরা বার বার প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি। আমরা যাত্রীদের সেবা দিতে পারছি না। এবং গাড়ী গুলো নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীক ভাবে মারাতœক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের এল এ শাখার গোবিন্দ দত্ত বলেন, কোটাপাড়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত ভুমি অধিগ্রহনের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিছু মামলা জটিলতার কারনে আটকে আছে। আর জাজিরা থেকে নাওডোবা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের যৌথ সার্ভে করার কাজ চলমান রয়েছে। কিছু এলকায় ৭ ধারা ও অর্থছাড় করানোর কাজ চলছে।
কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে ৩য় প্যাকেজের জাজিরা থেকে নাওডোবা পর্যন্ত কাজ পাওয়া মীর হাবিবুর আলম কনষ্টাকশনের সাইট ম্যানেজার মোঃ মিলন শেখ বলেন, আমরা কাজ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়। তাদের অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কাজ করতে দিবে না বলে জানিয়ে দেয় যার ফলে আমাদের কাজ করতে বেশ বিলম্ব হচ্ছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, শরীয়তপুর নাওডোবা মহাসড়কের নিয়ম অনুযায়ী ভুমি অধিগ্রহনের কাজ চলছে। অফিসে আসলে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে।
শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভুইয়া রেজওয়ানুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভুমি অধিগ্রহন কাজতো প্রায় সবই বাকী ।শরীয়তপুর নাওডোবা মহাসড়কের কাজ বৃষ্টি কালীন সময়ে কিছুটা গতি কম ছিল । এখন পুরাপুরি কাজ শুরু করবো। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে ।