শরীয়তপুরে নৌকা-স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২০
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ খালেদ শওকত আলী ও তার সমর্থকদের উপর নৌকার প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীমের সমর্থকরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পওে দু গ্রæপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় শতাদিক ককটেল বিস্ফোরণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্ততঃ ২০ আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নড়িয়া বাজারের সকলণ ব্যবসা প্রতিষ্টান বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় নড়িয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে ২ শ থেকে ৩ শ জন কে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
হামলা ও বিস্ফোরনের ঘটনায় আহতরা হলেন- নড়িয়া কেদারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম তপন ছৈয়াল (৩৩), নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হামজা (৫০), যুবলীগ নেতা সোহেল কাজী (৩৬), কনক লস্কর (৪০) ও সোহেল বন্দুকছি (৪০), পথচারী রনি মিয়া (৩০), জাকির হোসেন (২৪),রবিন সৈয়াল (৩৫) সহ অন্তত ১০ জন। আহতদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাজেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনয়ন পান পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ এ কে এম এনামুল হক শামীম। আর এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সাবেক ডেপুটি স্পীকার মরহুম কর্নেল (অব) শওকত আলীর ছেলে কেন্দ্রীয়
আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাঃ খালেদ শওকত আলী। গতকাল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও সমর্থকরা নড়িয়া মাছ বাজারের নিকট নির্বাচনের বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নৌকার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীও সমর্থদের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘটনা স্থলে আসলে তার গাড়ীর ্ সামনে ব্যাপক ককটেলের বিস্ফোরন ঘটে। এ সময় প্রায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নড়িয়া থানার এস আই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২ /৩ শত জনকে আসামী কওে একটি মামলা দায়ের করে। এ ছাড়াও উভয় পক্ষে এখন ও কোন মামলা হয়নি। তবে উভয় পক্ষ মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ খালেদ শওকত আলী বলেন, সুরেশ্বর হুজুরের বাড়িতে মিলাদে যাই। তখন শুনতে পাই নড়িয়া বাজারে আমার সমর্থক কনক ও আল আমিনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তখন আমি থানায় অভিযোগ করতে আসি। থানার সামনে আসলে দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ির ওপর ককটেল ছুড়ে মারে। আমার পিছনের গাড়ি থামিয়ে আমার ড্রাইভারের চাবি নিয়ে যায় এবং তপন, সোহেল কাজীকে মারধর করে। নড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক ( ভিপি ) মোস্তফা সিকদার ও সুমন সিকদারের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা দুইজন এ কে এম এনামুল হক শামীমের কর্মী বলেই আমি জানি। আমি বিশ্বাস করি নড়িয়া-সখিপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নিবে।
নড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক (ভিপি) মোস্তফা সিকদার কে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া পৌরসভার মেয়র, (নৌকার সমর্থক) আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছু লোকজন বাজারে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আমাদের লোকজনদের সঙ্গে তাদের মারামারি বাধে। এ সময় সোহেল বন্দুকছি নামে আমাদের একজন আহত হয়। তাই আমরা মামলা করবো।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন,যেহেতু ৩০ /৩৫ টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। তাই নড়িয়া থানার এস আই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২/৩শ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষ বলছে মামলা দিবে। ঘটনার সময় দু’পক্ষই অনেক ককটেল বিস্ফরণ ঘটিয়েছে।