শরীয়তপুরে  শিশু অপহরণ, মুক্তিপনের জন্য হত্যা

শরীয়তপুরে শিশু অপহরণ, মুক্তিপনের জন্য হত্যা


শরীয়তপুর সদর উপজেলর খিলগাও গ্রামে স্কুল পড়–য়া এক শিশু অপহরনের পর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী কওে দুস্কৃতিকারীরা। মুক্তিপন চেয়ে পরে শিশুটিকে হত্যা করে বালু চাপা দিয়েছে । পুলিশ ঘটনার খবর পাওয়ার ৬ ঘন্টার মধ্যে মুল ঘাতকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে তাদের স্বীকারোক্তি মতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করে খবর নিশ্চিত করেছেন।
পালং মডেল থানা ও নিহত শিশুর পারিবারিক সূত্র তথা মামা ইকবাল খান জানান, ৩১ জুলাই সোমবার বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টায় সদর উপজেলার খিলগাও গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসি মনির হোসেন খানের ছেলে শরীয়তপুর শিশু কানন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ৫ম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্র নিবির (১১) নিজ বাড়ির পাশে রাস্তায় মোবাইল নিয়ে ফ্রি ফায়ার খেলা করছিল।

এ সময় মনির খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া সিয়াম (২০) তার নিজের একটি মানি ব্যাগ ও মোবাইল শিশু নিবিরের মাধ্যমে বাসায় পাঠায় । নিরব তার মোবাইল সিয়ামের কাছে রেখে যায়। কত দুর যেতে না যেতেই নিরবের মোবাইল দিয়ে সিয়ামের মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়া এখানে আয়। এমনি করে সুকৌশলে বাড়ির ভাড়াটিয়া সিয়াম ও তারসহযোগী কতিপয় দুস্কৃতিকারী মিলে শিশু নিবির কে একটি মোটরসাইকেল যোগে অপহরন করে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যায়।সেখানে শিশুটি বাড়ি আসার জন্য কান্না করছিল।এ
সময় ঘাতকরা তাকে মাথায় আঘাত কওে এবং গলাটিপে হত্যা কওে মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঐ দিনই (৩১ জুলাই সোমবার) রাত অনুমান ৭টায় নিবিরের মা নিপা আকতারের মোবাইলে ০১৭৩০৪৩২০৮২ নাম্বার দিয়ে ফোন করে শিশু নিববের জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। অপহরণ কারীরা ৩ ঘন্টা পরে শিশু নিরবকে ফেরত দেয়ার কথা বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনার পর কোন উপায় না পেয়ে পরিবারের লোকজন পালং মডেল থানায় এসে একটি সাধারন ডায়েরী করে। পুলিশ ঐ মোবাইলের সূত্র ধরে পাশের বাড়ির পাশের সাধন মন্ডল নামে একটি ছেলেকে আটক করে। এ সময় সাধান বলে ঐ মোবাইল সিমটি তার। তবে ১ বছর পূর্বে হারিয়ে গেছে। ঐ মোবাইলের আইএমই নম্বর অনুযায়ী পরবর্তীতে ঐ বাড়ির ভাড়াটিয়া সিয়ামকে আটক করে।সিয়াম পাবনা জেলার সিংগা বাজারের ছব্বুর মিয়ার ছেলে । সে দীর্ঘ ১২/১৩ বছর যাবত মনির খানের বাড়িতে ভাড়া থাকে এবং পার্শ্ববর্তী খান ব্রিকস ইটভাটয় গাড়ি চালায়। আশ্চার্য হলে ও সত্য যে সিয়াম নিখোজ শিশুর স্বজনদের সাথে শিশুটিকে খোজাখুজিও করছিল। তাকে পুলিশ আটক করে উত্তম মাধ্যম দেয়ার পর সে অপহরনের কথা স্বীকার করে। তার দেখানো মতে ঐ ইটভাটার পাশে নদীর তীরে বালু চাপা দেয়া অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে শিশু নিবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিয়ামের স্বীকারোক্তি মতে ৩দিন পূর্বে তারা কজন নিরবকে অপহরণের পরিকল্পনা করছিল। পুলিশ তার সহযোগী শাওন (১৮)শাকিল (১২) তুহিন ( ১১)নামে আরো ৩জন কে আটক করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় নবাগত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির হয়দার শাওন, পালং মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শিশু নিবি

র এর মা নিপা আকতার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বুকের ধন শিশুকে অপহরন করে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দবী করেছে। মুক্তিপণ চেয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখে। ঐ মোবাইলের সূত্রধরে পুলিশ আমার ছেলের ঘাতকদের গ্রেফতার করেছে ।তাদের দেখানো জায়গা থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাসি চাই।
পালং মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ৬ ঘন্টা চেষ্টা করে শিশু অপহরণকারী ৪জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের দেখানো স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামীদেরকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Leave a Reply