১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাংগা রেলওয়ের উদ্ধোধন, হতাশ শরীয়তপুরবাসী!


আগামী ১০ অক্টোবর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে ঢাকা-ভাংগা-যশোর অত্যাধুনিক রেলপথ।স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে যাবে রেলগাড়ি। দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের নতুন ধার উম্মোচন হবে। এতে এ অঞ্চলের অধিকাংশ জেলার মানুষ খুশি হলেও ঢাকার সবচেয়ে কাছের জেলা শরীয়তপুর জেলায় রেলপথের কোন সংযোগ না থাকায় হতাশ শরীয়তপুরবাসী। এ জেলার বুক চিরে রেলপথ গেলে ও রেলওয়ে ষ্টেশন রাখা হয়েছে মাদারীপুরে। ফলে শরীয়তপুর বাসী বঞ্চিত হয়েছে রেলওয়ের সেবা থেকে। স্থানীয়দের ক্ষোভ যোগ্য নেতৃতে¦্যর অভাবেই পুরো জেলাবাসী পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে।
রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রæপ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী কাজটি সম্পন্ন করেছে। আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর থেকে উড়াল রেল পথ হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ফরিদপুরের ভাংগ রেলষ্টেশনের উদ্বোধন করবেন। রেলপথ শরীয়তপর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার উপর দিয়ে গেলেও রাখা হয়নি এ জেলা বাসীর জন্য একটি ষ্টেশন ও। শরীয়তপুর
জেলার সীমানা থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে রাখা হয়েছে মাদারীপুর জেলার শিবচর এলাকায় রেলওয়ে ষ্টেশন। এখানে ও বৈষম্যতার নমুনা। তাই রেলওয়ে অত্যাধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শরীয়তপুর জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প স্বপ্নের এ পদ্মা সেতুর জন্য শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার শত শত মানুষের বাপ দাদার ভিটে মাটি গেলে ও তাদের কোন দুঃখ নেই। শত শত একর জমি তাদের যাওয়ার পর ও তাদের জেলায় রেল পথ না করায় খুবই মর্মাহত ও হতাশ এরা।
জাজিরা উপজেলার আওয়মীলীগের একাধিক নেতা প্রকাশ না করার শর্তে বলেন , আমাদের জেলার নেতারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নিকট যথাযথ দাবী করতে না পাড়ায় এবং তার কাছে ঠিকমত উপস্থাপন করতে না পাড়ায় আমরা পুরো শরীয়তপুরের মানুষ রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত হলা
নাওডোবা এলাকার জমির মালিক আব্দুল লতিফ ফকির বলেন , পদ্মা সেতুর জন্য আমাদের বাপ দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে দিয়েছি। তাতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। তবে আমাদের এলাকায় রেলপথ নেই এতে আমরা খুবই দুঃখিত ও কষ্ট পেলাম।
নাওডোবা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোসলেম মাদবর বলেন , প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু হয়েছে । আমরা অত্যান্ত আনন্দিত ও গর্বিত। কিন্তু আমাদের এ অঞ্চলে রেল সংযোগ না থাকায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।
শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন , পদ্মা সেতুর জন্য দক্ষিনাঞ্চলের সকল জেলায় উন্নয়ন হয়েছে । কিন্তু আমাদের জেলায় সড়ক পথ সহ তেমন উন্নয়ন হয়নি। পদ্মা সেতু আমাদের অনেক সুয়োগ সুবিধা তৈরী করে দিয়েছে। তবে আমরা আমাদের রাস্তাটির জন্য কোন সুবিধা পাইনি। এটা বড় কষ্টের ব্যাপার । তারপরও দক্ষিনাঞ্চলে রেল লাইন চালু হওয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। আমাদের জেলায় একটি ষ্টেশন ও না থাকায় আমরা রেল লাইনের সুয়োগ সুবিধা পাব না। এ জন্য আমাদের সরকারের কাছে দাবী এত উন্নয়ন যেহেতু হল সে উন্নয়নের অংশীদার তো আমরা শরীয়তপুর বাসী ও পাওয়ার দাবীদার।
রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার বলেন, রেলওয়ের ষ্টেশন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাছাকাছি শিবচর অঞ্চলে করা হয়েছে। আসলে পদ্মা সেতু আগে হয়েছে তার ডিজানের সাথে মিল রেখে রেল লাইন করা হয়েছে । এখানে রেল লাইনে তো আকা বাকা করার সুয়োগ নাই।

Leave a Reply