শরীয়তপুরসদর উপজেলার দেওভোগ গ্রামে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে ছাত্তার ফকির (৫০) নামে একজনকে হাতুড়ি,লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ছেনদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পালং থানা পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ১৩জনের নাম উল্লেখ সহ ৩/ ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পালং মডেল থানায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে ৩ জনকে তাৎক্ষনিক আটক করে পরে মামলায় এজাহারে অর্ন্তভুক্ত করে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ও পালং মডেল থানা সূত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুরসদর উপজেলার দেওভোগ গ্রামের আঃ ছাত্তার ফকির এর ছেলে শামীম ও বাবুবুল মোল্যার ছেলে মাফুজ এর সাথে গত শবে বরাতের দিন দেওভোগ
কালিখোলা নামক স্থানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারা মারামারি হয়। এ ঘটনায় বাবুল মোল্যার ছেলে মাফুজ আহত হয়। এ ঘটনায় বাবুল মোল্যার পক্ষথেকে ছাত্তার ফকির ও তার ছেলে সহ লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ঐ মামলায় ছাত্তার ফকির দীর্ঘদিন হাজত জেল খেটে গত ঈদের সময় জামিনে মুক্তি পায়। এরপর স্থানীয় ভাবে বিষয়টি নিয়ে সালিস মীমাংসার চেষ্টা চলে। বাবুল মোল্যা মীমাংসায় রাজি না থাকায় মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। এ মামলায় পুলিশ তদন্ত কালে আঃ ছাত্তার ফকিরকে ঘটনায় জড়িত না থাকার প্রমান পেয়ে মামলার অভিযোগপত্রে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে বাবুল মোল্যা ক্ষিপ্ত হয়। বাদীপক্ষ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেয়। এরপর থেকে ছাত্তারকে খুন করার জন্য পরিকল্পনা আটে। গত শুক্রবার ঘটনার দিন দিবাগত রাত অনুমান ১১টায় ছাত্তার ফকির প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওৎপেতে থাকা প্রতিপক্ষ বাবুল মোল্যা, কামাল ফকির, মাফুজ মোল্যা,সেকান্দর, আরিফ ,মিলন গংরা ছাত্তার ফকিরের উপর অতির্কিত ভাবে হামলা করে এলোপাথারী হাতুড়ি ,লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো ছেনদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ছাত্তার ফকির বাচাও বাচাও চিৎকার করলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় নিহত ছাত্তার ফকিরের স্ত্রী সালমা আকতার বাদী হয়ে ১৩জনের নাম উল্লেখ সহ ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পর পর মাসুম,শিহাব ও ইব্রাহিম ওরফে ইমরান কে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে আটক করে পরে মামলার এজাহারে অর্ন্তভুক্ত করে কোর্টে সোপর্দ করেছে।মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহত ছাত্তার ফকিরের আতœীয় জিয়া মোল্রা বলেন, পূর্ব শত্রæতার জের ধরে বাবুল মোল্যা ও কামাল ফকির ও তাদের লোকজন ছাত্তার ফকির কে খুন করেছে। এটার উপযুক্ত চিার চাই।
মামলার বাদীনি নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন আমার স্বামী ছাত্তার ফকিরকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে বাবুল মোল্যা, কামাল ফকির, মাফুজ মোল্যা,সেকান্দর, আরিফ ,মিলন গংরা পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
পালং মডেল থানার ওসি মোঃ আকতার হোসেন বলেন,এ ঘটনায় ১৩জনের নাম উল্লেখ সহ ৩/৪ জন অজ্ঞাত আসামী করে মামলা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এ ঘটনার পর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।