শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের ২২ রশি গ্রামে আদালতে বিচারাধীন ফসলী জমিতে রাতের আধারে ভেকু দিয়ে মাটিকাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনা নিয়ন্ত্রনে এলাকায় পুলিশ পরিদর্শন করেছে। জমির মালিকরা বিচার দাবী করে জেলা প্রশাসক সহ প্রশানের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
২২রশি গ্রামের ফেরদাউস মাদবর ,আবু আলেম ভুইয়া জানান, গত বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের ২২ রশি গ্রামের বিলের মাঝে আবু আলেম ভুইয়ার জমি থেকে আবু আলেম বেপারীর পুকুর পর্যন্ত প্রায় কোর্য়াটার কিলোমিটার পর্যন্ত ফেসলী জমি যেখানে ধান,পাট ,মেসতা ধনচে ও গরুর ঘাস বিদ্যমান রয়েছে। ঐ সকল জমির ফসল বিনষ্ট করে রাতের আধারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা লোকজন অথবা জমির মালিকগন কেউ জানে না। বৃহস্পতিবার সকালে বিলে ভেকুতে মাটি কাটতে দেখে জমির মালিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে ভেকু চালকরা পালিয়ে যায়।এ সময় জমির মালিক ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হাকিম মাদবর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পালং মডেল থানায় ফোন দেয়। সেখান থেকে কোন সাড়া না পেয়ে তিনি ৯৯৯ তে ফোন দিলে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। পুলিশ ভেকু মেশিনটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম চৌধুরীর কাছে জিম্মায় রাখে।পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে জমির মালিকরা বলছেন আদালতে বিচারাধীন ফসলি জমিতে ফসল বিনষ্ট করে কেবা কারা মাটিকাটছে তারা জানেনা। তাই জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ অনেকের কাছেই অভিযোগ দায়র করেছেন। তারা বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবী জানান।
এ ব্যাপারে জমির মালিক সামচুল হক মাদবর বলেন, বিরোধীয় জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাছাড়া ফসলী জমিতে বিদ্যমান ধান পাট মেসতা ধনচে ও গরুর ঘাস রয়েছে। রাতের আধারে কেবা কারা ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটছে। জানি না। সকালে ভেকুর শব্দ শুনে গিয়ে ভেকু চালককে জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে ভেকু রেখে পালিয়ে যায়। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
এ ব্যাপারে ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হাকিম মাদবর বলেন, ফসলী জমিতে কেবা কারা রাতের আধারে ভেকু দিয়ে মাটি কাটেছে আমাকে জানায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনকে অবহিত করেছি। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।
তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল হোসাইন ফকির বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে আমি জানি।এটা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোটার কাবিটা প্রকল্পের মাটির রাস্তা নির্মান প্রকল্প। স্থানীয় মেম্বার সহ সকলেই জানে। জনস্বার্থে এ প্রকল্পটি নেয়া হয়। রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে ঐ বিলের ফসলী জমির ফসল পরিবহন, জমির মূল্য বৃদ্ধি সহ জনগনের যাতায়তের সুবিধা হবে।
পালং মডেল থানার ওসি মোঃ আকতার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়েছে। ভেকু গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়েছ্ ে। তবে জানতে পারলাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাস্তা নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিবে।