সখিপুরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের হাতে স্বামী খুন,আটক ২

সখিপুরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের হাতে স্বামী খুন,আটক ২


ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার তারাবুনিয়া এলাকায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের হাতে দুবাই প্রবাসী স্বামী খুন হয়েছে । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে সখিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কোর্টে সোপর্দ করেছে।
সখিপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সখিপুর থানাধীন উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মজিল হক বেপারী কান্দি গ্রামের আলাউদ্দিন বেপারী দীর্ঘদিন যাবত দুবাই প্রবাসী। তার স্ত্রী রুমা আক্তার (২৮) দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ মৃধা আলাউদ্দিন বেপারীর একটি দোকান ভাড়া নিয়ে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। ভাড়া উত্তোলনসহ কাপড় সেলাই করতে গিয়ে রুমার সঙ্গে আব্দুল্লাহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস আগে আলাউদ্দিন দেশে ফেরার পর আব্দুল্লাহ ও রুমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় মুরব্বিরা বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। তারপরও ঘটনার দিন আলাউদ্দিন বেপারী আব্দুল্লাহ মৃধার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে আব্দুল্লাহ তার হাতে থাকা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আলাউদ্দিনের ঘাড়ে আঘাত করেন। স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করতে গেলে কিরন প্রধানীয়া কে ও আহত করে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিন বেপারীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্পিডবোটে সে মারা যায়। এ ঘটনায় ঘাতক আব্দুল্লাহ মৃধা ও রিফাত মৃধাকে আটক পুলিশ করেছে । আহত বেপারী কান্দি গ্রামের কিরন প্রধানীয়া চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত আলাউদ্দিন বেপারীর মরদেহ চাদপুর হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে রাতে বাড়ি নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত আলাউদ্দিনের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ একটি গোপন ছবি দিয়ে আমাকে জ্বালাতন করত। ভয় দেখিয়ে বলত, ফেসবুকে ছবি ভাইরাল করে দেবে। সেই ছবি আমার মোবাইলে দিয়েছে সে। ছবিটি আমি ডিলেট করিনি, আমার স্বামীকে দেখানোর জন্য। সে ছবি দেখতে পেয়ে আমার স্বামী আব্দুল্লাহর দোকানে গিয়েছিল। তারপর আবদুল্লাহ কাপড় কাটার কাচি দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি ছেট দুটি শিশুদের নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহত আলাউদ্দিন বেপারীর ছোট বোন তানজিলা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ ও রুমা প্রেম করে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিচার সালিশে আব্দুল্লাহকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। আব্দুল্লাহ মৃধা ও তার ভাই রিফাত মৃধা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।ওদের ফাঁসি চাই।
সখিপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইয়াকুব বেপারী বাদী হয়ে খুনের মামলা করেছেন। ২ জনকে গ্রেফতার করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply