শরীয়তপুর হাসপাতালের সামনের ঔষধের দোকানে অতিরিক্ত দামে স্যালাইন বিক্রি ও অবৈধ মজুত রাখার অপরাধে দুজন ওষুধ ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিবাদে পৌর শহরের সব দোকানে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪ ঘণ্টা পর দোকান খুলে দেয়া হয়।সোমবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল গেট এলাকায় মেসার্স সুমন মেডিকেল হল ও পদ্মা মেডিকেল হলে অভিযান পরিচালনা করে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুন শরীফ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইনের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে সোমবার দুপুর ২টার দিকে সদর হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকান গুলোতে অভিযান পরিচালান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অতিরিক্ত দামে স্যালাইন বিক্রি ও অবৈধ মজুত রাখার সত্যতা মেলায় মেসার্স সুমন মেডিকেল হলের মালিক ওবায়দুর রহমান খানকে ১০ হাজার ও পদ্মা মেডিকেল হলের মালিক মাহবুবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার প্রতিবাদে পৌরশহরের সবকটি ওষুধের দোকান সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখে ঔষধ ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় দোকান চালু করে ঔষধ ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুন শরীফ বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইন অবৈধভাবে মজুত রেখে চড়ামূল্যে বিক্রি করছিল অসাধু কতিপয় ব্যবসায়ীরা। দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের সত্যতা মেলায় জরিমানা করা হয়।
শরীয়তপুর জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান খান বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে সিভিলে এসে ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় স্যালাইন চেয়েছিল প্রেসক্রিপশন ছাড়া। প্রেসক্রিপশন ছাড়া মেডিসিন চাওয়ায় ওষুধ ব্যবসায়ীরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট এসে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। এরই প্রতিবাদে ওষুধের দোকান গুলো বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় হয়। তাদের অনুরোধে আমরা দোকান গুলো খুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, অনেকেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া দামে ওষুধ বিক্রি করছিল এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জরিমানা করেছেন।