সড়ক দূর্ঘটনায় সদর উপজেলার সুবচনী এলাকায় এক গৃহবধূ ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছে। তার বাড়ি গোসাইরহাট উপজেলা নাগের পাড়া । গত বৃহস্পতিবার সকালে এ দূর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহতের স্বামী রায়হান শিকদার স্ত্রীর শোকে বাকরুদ্ধ । সে স্ত্রী হারানো শোক মেনে নিতে পারছেনা। সে স্ত্রী লাশ ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। তার আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।নিহতের ৬ মাসের শিশু সাদ রাইয়ান। একটু পর পর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর তার মাকে খুঁজছে । কিন্তু শিশুটি বুঝতে পারছে না তার মা আর ফিরবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছে তার মা হালিমা তুজ সাদিয়া (১৮)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া বালিকুড়ি এলাকার লাল মিয়া শিকদারের ছেলে রায়হান শিকদারের সঙ্গে বিয়ে হয় মাছুয়াখালি এলাকার বাবা-মা হারা হালিমা তুজ সাদিয়ার। ৬ মাস আগে তাদের সংসারে জন্ম নেয় সাদ রাইয়ান নামের এক ছেলে সন্তান। সম্প্রতি শিশুটির হাতে চুলকানি দেখা দিলে স্থানীয় নাগেরপাড়া বাজারে পল্লি চিকিৎসক দেখানো হয়। এরপরও ভালো না হলে বৃহস্পতিবার সকালে বাবা রায়হান শিকদার ও মা হালিমা তুজ সাদিয়া শিশু রাইয়ানকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে শুবচনী বাজারে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি গুইসাপ রাস্তা পার হওয়ার সময় ভ্যানের সামনের চাকার নিচে পড়লে ভ্যানটি উল্টে যায় । এতে ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে হালিমা গুরুতর আহত হয়। পরে হালিমাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী রায়হান শিকদার আহাজারি করে বলেন, আমার স্ত্রী এভাবে মারা যাবে মেনে নিতে পারছি না। এত তাড়াতাড়ি আল্লাহ আমার স্ত্রীকে নিয়ে গেলো। আমার ছেলেটি আজ এতিম হয়ে গেলো। ওরে আমি কীভাবে বড় করবো।
নিহতের শাশুড়ি মাজেদা বেগম বলেন, বাবা-মা হারা এতিম মেয়েকে ছেলের বউ করে এনেছিলাম। অনেক যতœ করতো আমাদের। এভাবে মৃত্যু হবে তা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। পোস্টমর্টেম ছাড়া আমরা আমাদের ছেলের বউয়ের মরদেহ বাসায় নিয়ে মাটি দিতে চাই।
ভ্যানচালক মন্নান হোসেন বলেন, চলতি গাড়ি চালাইতেছিলাম। হঠাৎ কইরা একটা গুইল সাপ আমার গাড়ির সামনের চাক্কার নিচে পড়লে গাড়ি উল্টাইয়া যায়। পরে উনি চাপা পড়েন।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, নাগেরপাড়া থেকে সুবচনী আসার আগে একটি ভ্যান উল্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে লশ উদ্ধার করি। পরিবারের পক্ষথেকে কোন অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।