বৈধ কাগজপত্র  থাকা স্বত্বেও প্রভাবশালীদের দাপটে বাপ দাদার জমি থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে

বৈধ কাগজপত্র থাকা স্বত্বেও প্রভাবশালীদের দাপটে বাপ দাদার জমি থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ জমির বৈধ কাগজপত্র ,রেকর্ড থাকা স্বত্বেও প্রভাবশালীদের দাপটের কারনে বাপ দাদার ভিটেমাটিতে পা রাখতে পারছেনা উত্তরাধিকারগন।যুগ যুগ ধরে জবর দখল করে ভোগ করে আসছে প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় দরবার শালীসগনকে উপেক্ষা করে জমি দখল করে ভোগ করছেন প্রভাবশালী। এমন অভিযোগ রয়েছে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রাঢি কান্দি চরতারাবুনিয়া গ্রামের ওহাব রাঢির বিরুদ্ধে । প্রভাবশালী ওহাব রাঢি বলছেন আমি জমি কেনার সময় জানতাম না ইম্মত আলী রাঢি এ খতিয়ানে বা দাগে জমি পাবে। জমি পেতে হলে মামলায় শেষ হোক । মামলায় রায় পাইলে তার পর জমি দিব। শালিসগন বলছেন ওহাব রাঢি কাউক্ইে সে মানে না। সে জোর পূর্বক জবর দখল করে নিরিহ মানুষের জমি ভোগ দখল করছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন তাদের বাপ দাদার রেকর্ডীয় জমি। জমিতে গেলে তাদেরকে মারপিট করে ,হুমকি ধমকি দেয়। কোন শালিস সংস্থা মানে না। মিথ্যা মামলা করে বছরের পর বছর হয়রানি করছে। এটা থেকে নিস্তার চায় তারা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রাঢি কান্দি চরতারাবুনিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম রাড়ি জানান, ৮০ নং তারা বুনিয়া মৌজার ৪২৭ নং এস এ খতিয়ান ভুক্ত ১০৩০৬,১০৩৪৪,১০৩৪৫ ও ১০৩৫২ নং দাগের ২.৫১ শতাংশ জমি। যার ১৬ আনার ১০ আনা মালিক মহম্মদ আলী চৌধুরী এবং ১৬ আনার ৬ আনার মালিক ইম্মশ আলী রাঢি। যাহা পরবর্তীতে বিআরএস খতিয়ান নং ১২৮১ । দাগ নং ১২৮০৬ । এ জমি ইম্মত আলী মৃত্যুর পর তার সন্তান ও নাতি পুতিগন মালিক হন। এ জমির কিয়দাংশ মহম্মদ আলী রাঢি তার অংশ স্থানীয় এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। সে আবার আলী একাবর মাঝির কাছে বিক্রি করে। আলী একাবর
মাঝি ওহাব আলী রাঢির নিকট বিক্রি কওে দেয়। কিন্তু ইম্মত আলী রাঢির জমি কারো কাছে বিক্রি করেনি। তার জমি বিআর এস রেকর্ডে তার নামেই রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে তার উত্তরাধিকার গন নামজারি করে অলি উল্লাহ রাঢি, মোঃ আলী রাঢি, রহিমা খাতুন গং নিজেদের নামে যে যতটুকু মালিক ততোটুকু করে নামজারি করে নিয়ে যায়। এ জমির খাজনাদি পরিশোধ করে আসছেন ইম্মত আলীর উত্তরাধিকারগন। কিন্তু দীর্ঘ দিন যাবত ওহাব আলী রাড়ি এ জমি জবর দখল করে ভোগ করে আসছেন। সে ইম্মত আলী রাঢির উত্তরাধিকারদের জমিতে দখল দিচ্ছেনা। ভুক্তভোগীদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরি দেয়ার পরে জমির মালিক নুরুজ্জামান রাঢি,নুরুল ইসলাম রাঢি গং জমিতে মাটি ফেলতে গেলে ওহাব আলী রাঢি বাধা দেয়। সেখানে আইন শৃংখলার বাঘাত ঘটায়। ভুক্তভোগীরা দুর্বল বিধায় জমির কাগজপত্র থাকা স্বত্ত্বে ও তারা জমিতে দখলে যেতে পারছেনা। তাদেরকে কোন দখলই দিচ্ছেনা। বরং প্রভাবশালী ওহাব আলী রাঢি ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এখন তারা নিরুপায়। তারা চায় তাদের রেকর্ডীয় জমি টুকু যেন তারা ভোগ দখল করতে পারেন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি ও প্রশাসনের কাছে তাদের দাবী যেন তাদের পাওনা ৫৫ শতাংশ জমি তাদেরকে পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তানাহলে এ বিরোধের জের ধরে এলাকায় বড় ধরনের আইন শৃংখলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উম্মত আলী রাঢির ছেলে সেকান্দও আলি রাঢ়ি ও বাচ্চু রাঢি বলেন, আমার বাপ দাদার জমি । বিরোধীয় জমি আামার বাবার নামে রেকর্ড আছে। জোর পূর্বক ওহাব আলী রাঢি দীর্ঘ দিন যাবত দখল কওে ভোগ দখল করছে। আমাদেও জমি ভোগ করতে দিচ্ছে না। আমরা দখলে গেলে আমাদের মারপিট করে এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়। ওহাব আলী কোন দরবার শালিস মানে না। আমরা আমাদের জমি দখল চাই।
এ ব্যাপারে ওহাব আলী রাঢি বলেন, আমি জমি কেনার সময় জানতাম না ইম্মত আলী রাঢি এ খতিয়ানে বা দাগে জমি পাবে। জমি পেতে হলে মামলায় শেষ হোক । মামলায় রায় পাইলে তার পর জমি দিব।
স্থানীয় উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার আসামী বলেন, এ বিষয়ে কয়েক দফা দরবার শালিস হয়েছে। জমি পরিমাপ করে যার যার জমি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর ওহাব আলী আবার ঐ জমি থেকে নুরুল ইসলাম রাঢি গং দের বিতাড়িত করেছে। ওহাব আলী কাউকে মানে না। তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা উচিৎ।

Leave a Reply