পাউবো কর্মচারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

পাউবো কর্মচারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা


শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিস সহায়ককে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পালং থানায় পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।যেখানে বিএম ইস্রাফিল ও তার সহযোগী সুমন হাওলাদারসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মালার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন। আহত ওই
কর্মচারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।বেলায়েত শরীয়তপুর সদর উপজেলা তুলাসার গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সিকদারের ছেলে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়নবোর্ড অফিস ও মামলার এজাহারে বিবরনে জানা গেছে, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কীর্তিনাশা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষার প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬ মাস ধরে চলছে। রাজগঞ্জ এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল কনস্ট্রাকশন লিমিটেড বালু ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করার কাজ করছে। রোববার সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন বেলায়েত। বিকাল ৩টার দিকে সেখানে যান সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিল ও তার সহযোগী সুমনসহ ৪/৫ জন।জিওব্যাগে বালুর পরিমাণ ও নদীতে ডাম্পিং করার বিষয়ে তারা খোঁজখবর নেন। এ নিয়ে বেলায়েতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বেলায়েতকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, বেলায়েতের কাছে ৫০ হাজার টাকাও দাবি করেছেন সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিল ও সুমনসহ ৪/৫ জন।
আগত বেলায়েতের বাবা আব্দুল হাই সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ইস্রাফিল ও সুমনের কোনো বিরোধ ছিল না। শুনেছি সুমন বালু সাপ্লাই দিতে চেয়েছিল আর ইস্রাফিল চাঁদা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। এগুলো না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমার ছেলেকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। আমার ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।আমি এর বিচার চাই।
বাদী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম মোল্লা বলেন, সরকারি কাজে বাধা, চাঁদা দাবি ও শরীয়তপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারিনি।
এ ব্যাপারে ইস্রাফিল ও সুমন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং একাধিক বার তাদের মোবাইল ফোন নম্বরে কল করলেও তারা কথা বলেননি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, শরীয়তপুর সদরের রাজগঞ্জ এলাকায় আমাদের একটি প্রকল্পের কাজ চলছিল। সেখানে গিয়ে সাংবাদিক বিএম ইস্রাফিল ও তার সহযোগী সুমন হাওলাদার প্রথমে চাঁদা চায়। পরে সরকারি কাজে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বেলায়েতকে মারধর করে তারা।

Leave a Reply