মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল ও নৌ-পুলিশের ওপর জেলেদের হামলার নেপথ্যে পূর্বনাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খানের জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এমামলায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খানসহ ৮জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ১৫০/১৬০ জনকে আসামী করে সোমবার জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বাদী হয়ে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বাবুল ফকির ও দীন ইসলাম নামে দুইজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতা মনির খানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর শনিবার বিকেলে ইউএনও কামরুল হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জামাল হোসাইন ও মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কয়েক সদস্য মিলে পদ্মা নদীতে অভিযানে যান। ঐ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করায় ১১জন জেলেকে আটক করা হয়। তখন তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড করা হয়। এসময় ইলিশ ধরার জালসহ একটি ট্রলার জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত। এ ঘটনার পর পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খান ওই ট্রলারটি ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে আসেন। কিন্তু প্রশাসন তা না শুনে সন্ধ্যার দিকে পদ্মা নদীর মাঝে অভিযানে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাইনপাড়া এলাকায় গেলে পূর্বনাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খানের ইন্ধনে জেলেরা মাঝ পদ্মায় আলতাফ খা’র চর এলাকায় দেশীয় অস্ত্র টেঁটা ও সুরকি নিয়ে হামলা করে ইউএনও’র ওপর। অন্যদিকে মনির খান জব্দকৃত ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় জেলেদের হামলা ঠেকাতে আত্মরক্ষার্থে নৌ-পুলিশ ৯টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। হামলায় ইউএনও, নৌ-পুলিশ ও মৎস অফিসের কর্মচারী আহত হয়। এসময় আটক ১০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এসময় ২লাখ মিটার ইলিশ মাছ ধরার জাল
উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় সোমবার জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বাদী হয়ে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫০/১৬০ জনকে আসামী করে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বাবুল ফকির ও দীন ইসলাম নামে দুইজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতা মনির খানকে এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান ও তার ছোটভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খান সহ পরিবারের অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে পদ¥া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি ও ইলিশ মাছ ধরার সিন্ডিকেটের সাথে নানানভাবেই জড়িত। তবে এবার নিজেরা ইলিশ ধরার ট্রলার ও জাল নিয়ে নদীতে না নামলেও তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ নিধনে জোরে শোরে নেমেছে। তাই কোনো ট্রলার ধরলেই তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা পারিবারিক ভাবেই এলাকায় রাজনীতি করি এবং বালুর ব্যবসা করি। এবার মাছ ধরার কোনো কাজে সংশ্লিষ্ট নেই। ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার নাম মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় বাবুল ফকির ও দীন ইসলাম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।
এব্যাপারে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, অভিযানে গিয়ে লক্ষাধিক টাকার জাল সহ আটককৃত ট্রলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন খান তদবির করে ছাড়াতে না পেরে আসামী ও জালসহ ট্রলার ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। জেলেরা নিরীহ তাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র থাকার কথা নয়। হামলায় আমি সহ টিমের অনেকে আহত হই। যতই বাঁধা আসুক মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলবেই।