গোসাইরহাট উপজেলার ধীপুর মৌজায় ভুমি দস্যুদের বিরুদ্ধে অন্যের জমি জবর দখল করার অভিযোগ পাওয়াগেছে। এ ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছে। জমির মালিক প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
গোসাইরহাট থানা ও জমির মালিক স্বপন শিকারী জানান, গোসাইরহাট উপজেলার দাসের জঙ্গল এলাকার মোশারফ হোসেন বাদল দেওয়ান গংদের সাথে ইদিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন শিকারী ,স্বপন শিকারীদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন পূর্বে এ নিয়ে উভয় সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষে মামলা হয়েছে। মামলায় দেলোয়ার হোসেন শিকারী, স্বপন শিকারী দেলোয়ারের ছেলে রাজন শিকারী ও স্বপন শিকারীর ছেলে রাফিন শিকারী কে প্রতিপক্ষ মামলায় আসামী করে। এ সময় দেলোয়ার হোসেন শিকারী গংরা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। এ ফাকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১১টায় প্রকাশ্য দিবালোকে বাদল দেওয়ান ও সমর্থক ২৫/৩০ জন সন্ত্রীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ দেলোয়ার হোসেন শিকারীদের নিজস্ব রেকর্ডিয় জমি ধীপুর মৌজার এসএ ১৭৮ খতিয়ানের ৭৮৬ দাগে যাহা বিআরএস ৫৪৬ নং খতিয়ানের ৯৭৪ দাগের ৩১ শতাংশ জমিতে ( যেখানে বর্তমান পানের বরজ বিদ্যমান রয়েছে) ১৯৭০ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসছেন। উক্ত জমি জবর দখল করে গাছপালা কেটে ও জমির সীমানার বেড়া ভাংচুর করে ছোট একটি টিনের দোচালা ঘর তুলেছে বাদল দেওয়ান। এ ঘটনার পর দেলোয়ার শিকারীর পরিবারের পক্ষথেকে গোসাইরহাট থানায় অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোসাইরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এ দিকে ভুমিদস্যু বাদল দেওয়ান ও তার সমর্থকরা হুমকি দিচ্ছে দেলোয়ার শিকরী ও তার ভাই স্বপন শিকারী সহ পরিবারের কাউকে পেলে জীবনে শেষ করে ফেলবে। ভয়ে পুরুষ লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পরিবারের নারী সদস্যরা আতংকে রয়েছে।
এ ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন শিকারী বলেন আমার খরিদ করা রেকর্ডীয় জমি ভুমি দস্যু বাদল দেওয়ান জোর পূর্বক দখল করে জমিতে ঘর তুলে গাছপালা কেটে ও বেড়া ভেঙ্গে বিনষ্ট করেছে। তারা আমাকে ও আমার পরিবারের কাউকে পেলে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমি ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছিনা। আমি প্রশাসনের নিকট আইনী সহায়তা চাই।
এ ব্যাপারে মোশারফ হোসেন বাদল দেওয়ান কে বার বার ফোন করলে ও তার ভাতিজাকে দিয়ে ফোন রিসিফ করে । সে কোন কথা বলতে রাজি হয় নয়।
গোসাইরহাট থানার ওসি মোঃ আসলাম সিকদার বলেন,এ বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ পাওয়াগেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।