ভেদরগঞ্জে যুবলীগ সহসভাপতির বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে মারধর করার অভিযোগে ৪ জন কারাগারে


ভেদরগঞ্জ উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঢুকে সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার যুবলীগ নেতা এস এম আলমগীর হোসেনের ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার রাতে ভেদরগঞ্জ থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আহত প্রকৌশলীকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। যুবলীগ নেতা বলছেন, ঘুষ চাওয়ায় ধস্তাধস্তি হয়েছে । মারধরের অভিযোগ মিথ্যাা।
আহত প্রকৌশলী শমেশ আলী ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের আওতায় ১৩০টি নলক’প স্থাপনের দায়িত্ব পায় মেসার্স তাসলিমা এন্টারপ্রাইজ। কিছুদিন আগে সেই কাজ শেষ হয়েছে। তার বিল আনার জন্য রোববার বিকালে ভেদরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে যান। এ সময় ঠিকাদার যুবলীগনেতা আলমগীর হোসেন ও প্রকৌশলীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এস এম আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে চুন্নু বেপারী, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবলীগের সহসভাপতি মোঃ আলমগীর মাদবর রিপন, শফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, মোঃ ইলিয়াস ও কবির হোসেন ৬ জন মিলে প্রকৌশল শমেশ আলীকে ঘুসি, লাথি, থাপ্পড় ও জুতা দিয়ে পিটিয়ে মারাতœক আহত করে। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর রোববার রাতে ভেদরগঞ্জ
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শমেশ আলী বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ এস এম আলমগীর হোসেন, চুন্নু ব্যাপারী, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবলীগের সহসভাপতি মোঃ আলমগীর মাদবর (রিপন), শফিকুল ইসলাম কোতোয়ালকে গ্রেফতার করে। সোমবার দুপুরে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অফিস পাড়ায় আতংক বিরাজ করছে।

প্রকৌশলীর শমেশ আলী বলেন, মেসার্স তাসলিমা এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এস এম আলমগীর হোসেন তাদের যাবতীয় টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু অবৈধভাবে ম্যাজারমেন্ট বুক চেয়েছিলেন। আমি দিতে দেরি করায় এস এম আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে চুন্নু ব্যাপারী, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবলীগের সহসভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন রিপন, শফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, মোঃ ইলিয়াস ও কবির হোসেন ৬ জন মিলে আমাকে ঘুসি, লাথি, থাপ্পড় ও জুতা দিয়ে পিটিয়ে মারাতœক আহত করে।
ঠিকাদার ও যুবলীগের সহসভাপতি এসএম আলমগীর হোসেন বলেন, ৬০ হাজার টাকা ঘুষের জন্য প্রকৌশলী শমেশ আলী দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রতিষ্ঠানের ম্যাজারমেন্ট বুক (এমবি) আটকিয়ে রেখেছে। আমি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে তার সঙ্গে বাকবিতন্ডা ও পরে ধস্তাধস্তি হয়। এখন তিনি নিজে সুবিধা নেওয়ার জন্য মিথ্যা মারধরের অভিযোগ করছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলা ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শরীয়তপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক বলেন, আমার ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে তার অফিসে ঢুকে ঠিকাদার ও তার লোকজন মারধর করেছে। আমি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। রাতেই ৬ জনকে আসামী করে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ৪ জন কে গ্রেফতার করেছে।

Leave a Reply