শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে  সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

শরীয়তপুরে সড়ক সংস্কারে ব্যাপক ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়কে বালুর পরিবর্তে
কাদামাটি দিয়ে তার উপর নিম্নমানের পুরোনো ইটের খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শরীয়তপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির এ অভিযোগ উঠে।উন্নয়ন কাজের বিপরীতে নির্ধারিত হারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ কাজের নিম্নমান ও অনিয়ম সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। উল্টো ঠিকাদারদের পক্ষেই সাফাই গাইছেন তিনি।তবে তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার পম লাকার্তা বাবুল খার দীঘির ব্রিজ থেকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বড় রাস্তা পর্যন্ত প্রায় পৌনে ৩ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।কাজটি করছেন আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধীকারী মাদারীপুরের ঠিকাদার আক্তার হোসেন বাবুল। কিন্তু সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমীন, শাহিন, আবুল, বাবুল, জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারসহ অনেকের সঙ্গে।তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার স্থানীয়দের অনুরোধের তোয়াক্কা না করে অনুমোদনবিহীন নিম্নমানের বালু, ইট-সুরকি ও পাথর দিয়ে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।রাস্তার দু’পাশ প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা যথাযথ করা হয়নি।রাস্তা টিকে থাকার জন্য দু’পাশে যে ইটের এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের।বালুর পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে তার ওপর নিম্নমানের পুরোনো ইটের খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কাউকে এসে রাস্তার কাজের তদারকি করতে দেখেননি তারা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইটের খোয়া এতোই নিম্নমানের ব্যবহার করা হচ্ছে যে পা দিয়ে চাপ দিলে তা ভেঙে যাচ্ছে।বিভিন্ন অংশে পুরোনো সড়কের পিচ না উঠিয়েই উপর দিয়ে পিচ ঢালাইয়ের পাঁয়তারা চলছে।গত প্রায় ৩ মাস ধরে বিভিন্ন অংশে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় ধূলোবালিতে একাকার হচ্ছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। সংস্কারের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে।স্থানীয় বাবুল হোসেন ও মিজানুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ইট-সুরকি, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে এ রাস্তা মেরামত করার ফলে কয়েক মাস যেতে না যেতেই তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে রাস্তার সুফল পাচ্ছেন না যাত্রী-সাধারণ।
তবে ঠিকাদার আক্তার হোসেন বাবুল কাজের অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার কাজ ভালো হচ্ছে। আমি কোনো খারাপ মাল দিয়ে কাজ করি না।এ কাজ এলজিইডিই বুঝে নেবে। আপনাদের সমস্যা কী ?

Leave a Reply