শরীয়তপুর শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় খান নিবিড়ের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তার এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায়বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এসময় কমপক্ষে ২ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে। নিবিড়ের মা
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩১ জুলাই শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির হোসেন খানের ছেলে শরীয়তপুর শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় খান নিবিড়কে (১১) অপহরণের পর হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তারপর তার মায়ের মুঠোফোনে কল করে মুক্তিপণ ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ ঘটনা পুলিশকে জানালে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪জনকে আটক করে।আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ আগস্ট ভোরে খিলগাঁও এলাকার মেসার্স খান ব্রিকসের পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে ওই শিশুর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর াাটককৃতদেরকে রিমান্ড চেয়ে কোর্টে সোপর্দ কওে পুলিশ। এরমধ্যে সিয়াম হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে আরো ২জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। আসামীরা আদালতে বলে মোটরসাইকেল কেনার টাকা জোগাড় করতে হৃদয়কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবীর পরিকল্পনা করে তারা। সহযোগীদের নিয়ে অপহরণ করার পর নিবিড় চিৎকার করলে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। গত ২ আগস্ট শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে হৃদয় খান নিবিড় হত্যার অভিযুক্ত শাওন চৌকিদার (২০), শাকিল গাজীকে (১৮) পাঁচদিন ও বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত তুহিনকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর কওে আদালত।আসামীদের মধ্যে তিনজনকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ও এক কিশোরকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত নিবিরের মা নিপা আক্তার বলেন, আমাদের বসত বাড়ির একটি ঘরে হত্যাকারী সিয়ামের পরিবার ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তাদের বাড়ি পাবনার সিংগা এলাকায়। ভাড়াটিয়া হিসেবে সিয়ামের সঙ্গে নিবিড় মিশতো। তার সঙ্গে কোথাও গেলে সন্দেহ করতো না কেউ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে আমার ছেলেকে হত্যা করবে, তা কখনো চিন্তা করিনি। আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।