শরীয়তপুরপ্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুর জেলা কারাগারে দীর্ঘ দিন যাবৎ দিশেী বন্দী ছিল ২০জন ।তাদের মধ্যে ৩ জন বিভিন্ন সময় গেছে । তাদের কে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মরচুয়ারীতে বা হিমাগারে রেখে লাশ সৎকার করতে সরকারের খরচ হয় ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষ হলেও তাদের কে পুরাপুরি পরিচয়না থাকা ও শরীয়তপুর কারাগারের কর্তপক্ষ থেকে বার বার উপরে চিঠি দিয়ে এবং ইন্ডিয়ান দুতাবাসে চিঠি দিয়ে ও কোন সারা না পাওয়ায় তাদের কে তাদের নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানো যাচ্ছে না।
শরীয়তপুর জেলার কারাগারের জেলার পাপিয়া সুলতানা ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ২০ জনকে সন্দেহ ভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে পদ্মা সেতু দক্ষিন থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। তাদের কে নাম সর্বস্ব ঠিকানা দিয়ে রড ,বাশ চুরি ও পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার হুমকি দেখিয়ে শরীয়তপুর কোর্টে চালান করে। শরীয়তপুর আদালতের বিচারক তাদের কে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। সে সাজা তারা শেষ করে বর্তমানে তারা আরপি বা রিলিজ প্রিজনার হিসাবে শরীয়তপুর কারাগারে বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সতেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিংক গত ২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারী মারা যায়। তাদের কে দীর্ঘ দিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্ন ভাবে চিঠি চালাচালি করে ও তাদের লাশ তাদের নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তার পর তাদের কে ২৫ সালের জানুয়ারী মাসের ২৮ তারিখে সৎকার করা হয়। পরবর্তীতে রাজন নামে আর ও একজন ভারতীয় নাগরিক ২৫ সালের ২৯মে শরীয়তপুর কারাগারে মারাযায়। পরবর্তীতে তাকে ২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মনোহর বাজার শশানে সৎকার করা হয়। এ তিন জন ভারতীয় নাগরিকের লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগোরে রাখা ও সৎকার করতে শরীয়তপুর জেলা কারাগার কর্তপক্ষের ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এখন ও শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ১৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ভারতীয় নাগরিক বন্দী রয়েছে। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলেও বর্তমানে তারা সাজা খেটে আরপি বা রিলিজ প্রিজনার শরীয়তপুর কারাগারে তারা বন্দী রয়েছেন। তারা ঠিকমত খাবার দাবার গ্রহন করে না । জামা কাপড় পরিধান করতে চায়না। তাদের ভাষা ও ঠিকমত বোঝা যায় না। তাই তারা নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় তাদের মৃত্যু হতে পারে। এ নিয়ে উর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার চিঠি লিখে ও তেমন কোন সুরাহা পাচ্ছেনা শরীয়তপুর জেলাকারা কর্তৃপক্ষ।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক এ্যাভোকেট মৃধা নজরুল কবীর বলেন , এ বিষয়ে পররাষ্ট ও আইন মন্ত্রনালয়ের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যাতে করে এ সকল বন্দীরা তাদের স্বজন ও নিজ দেশে ফেরৎ যেতে পারে।
চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চিকন্দী বারের সাবেক সভাপতি এ্যাভোকেট আব্দুল মান্নান তালকদার বলেন, একজন বিদেশী বন্দী জেলখানায় মারা গেলে তার লাশরহিমাগারে রক্ষনা বেক্ষণ ও নানা রকম আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের লাশ সৎকার করতে হয়। তাতে সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে তাদের কে নিজ দেশে পাঠানো উচিৎ।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ বজলুর রশিদ বলেন, গত ২০২২-২৩ সাল থেকে ২০ জন বিদেশী নাগরিক বন্দী ছিল। তাদের মধ্যে ৩ জন নাগরিক মারা যায়। তাদের কে আমরা দীর্ঘ দিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেখে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের লাশ সৎকার করি। এতে করে আমাদের ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যায় হয়। এখন যারা আমাদের এখানে বন্দী আছে তারা ঠিকমত খাবার খাচ্ছে না,কাপড় পরিধান করছেনা । এ নিয়ে আমরা উপরে লেখালেখি করছি । নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ ব্যাপরে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন ,আমার বিষয়টি জানা নেই। তবে কারাগারে ভারতীয় বন্দী আছে । কেন আছে তা ফাইল দেখে বলতে হবে।