শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর চাল অনিয়ম আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়াগেছে। এব্যাপারে তদন্তাকারী কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠেছে।অভিযোগকারীকে ডিলার মালিক মারপিট করার অভিযোগ পাওয়াগেছে । ডিলার অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন । অভিযোগকারীকে মারপিট করছে সেটা আমি জানিনা। ভেদরগ্ঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। খুব শিঘ্রই খাদ্য বান্ধব কমিটির মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন ডিএমখালী ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের মধ্যে ৩০ কেজি করে ডিলারের মাধ্যমে চাল বিক্রি করছে। এ চাল বিতরনে ৬নং ওয়ার্ডের ডিলার আরাফাত এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ইয়াছির আরাফাত এর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড দেখিয়ে চাল উত্তোলন কওে কালো বাজাওে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। যার কার্ড নং ৪৯০ ও ৭২৪ । এ ছাড়া ও কয়েকজন ভোক্তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের কার্ড নং ৩৯৪,৫৩০,৬৭২,৭৩৩,১৮, ৪০৫,৭২৪। এ সকল কার্ডের চাল উত্তোলন করে নিজে অনিয়ম কওে আত্নসাৎ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আকিল মালিক নামে এক লোক। তার এ অভিযোগ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ৪৯০ ও ৬৪৬ নং কার্ড ধারী কখনো চাল উত্তোলন করেনি। তাদেও নামে বিতরন দেখানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫১৯,৫৩২ নং কার্ডধারীকে চাল দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কার্ডধারী । এছাড়া মাঝে মধ্যে ৭৩৩ নং কার্ডধারীকে চাল না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ওজনে কম দেয়ার ও অভিযোগ বিস্তর । নুতন করে কার্ড বানিয়ে চাল দেয়ার কথা বলে ৩০০ করে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন ৫৩০,৩৯২,৩৯৪,৭৩৩,৬৭২ ৪৯৫ নং কার্ডধারীগন। এ ছাড়া একই পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে কার্ড দিয়ে একজনকে চাল দেয়া হয় অন্যজনের টা ডিলার রেখে কালো বাজারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যার কার্ড নং ৪৮৫ ও ৫৭১। গত ৩০সেপ্টেম্বর আকিল মালিক ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে শামীম আহম্মেদ কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন। খাদ্য কর্মকর্তা নিজে তদন্ত না করে পরিদর্শক মিনার হোসেন কে দিয়ে তদন্ত করান। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরেও ডিলার বহাল তবিয়তে আছে।এখনো তার নামের অনুকুলে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করছে।এ বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে অভিযোগ কারী আকিল মালিক (তিতুমীর )বলেন, ডিলার ইয়াছির আরাফাত ভুয়া কার্ড বানিয়ে চাল উত্তোলন করছে। মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে চাল বিতরন দেখানো হচ্ছে, কার্ডধারীদের থেকে টাকা নিয়েছে। অনেক কার্ডধারীকে চাল না দিয়ে নিজে এ সকল কার্ডধারীর চাল কালোবাজারে বিক্রি করছে।আমি অভিযোগ করার পর তদন্ত হয়েছে। তদন্ত কালে কর্মকর্তা আমাকে ডেকেছে। আমি বাড়ি ফেরার পথে আরাফাত লোকজন নিয়ে আমাকে মেরেছে।আমি এ সবের বিচার চাই।
ডিলার ইয়াছির আরাফাত বলেছেন,অভিযোগকারীর সাথে আমার দ্বন্দ আছে। সে কারনে অভিযোগ করেছে। তবে মৃত ব্যক্তির কার্ড এর কথা স্বীকার করে বলেছেন তারা মারা গেছে ২০১৭ সালে এটা আমি জানতাম না। একটা কার্ডধারীর থেকে একজনে ৩০০ টাকা নিয়েছে গাড়ি ভাড়া বাবদ। সেটা আমি নিজে নেইনি।মাপে কম দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।মারধর করার বিষয়ে অস্বীকার করেছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ বলে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত কালে কিছু কিছু বিষয়ে সত্যতা মিলেছে। খুব শিঘ্রই খাদ্য বান্ধব কমিটির মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। খুব শিঘ্রই খাদ্য বান্ধব কমিটির মিটিং করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।