নড়িয়ায় এনজিও কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট
নড়িয়া উপজেলায় সুইসাইড নোটসহ কমল বিশ্বাস নামে এক এনজিও কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের গবিন্দমঙ্গল এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কমল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মৃত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা) নামে একটি এনজিও সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কমল দুই বছর যাবত স্থানীয় এনজিও নুসা’র বিঝারী শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মাঝে মধ্যে অফিসের একটি কক্ষে রাতে ঘুমাতেন। সকালে একই শাখার দ’ুজন মাঠকর্মী অফিস কক্ষে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে বাড়ির মালিক নূর ইসলাম ঢালীকে জানান। নূর ইসলাম ঢালী বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় জব্দ করা ওই সুইসাইড নোটে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী মনজিলা, মাইনুদ্দিন ও ইতি দাস। ১ নম্বর মনজিলা আমার কাছ থেকে ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা বিভিন্ন মাসে নিয়ে তা স্বীকার করেন না। তার সাক্ষী মোক্তার হোসেনের নামে আরও ৮০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তাকে না দেওয়ায় আমার নামে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা শুরু করেন, যা মিথ্যা ও বানোয়াট। মনজিলা ঝগড়াটে, মিথ্যুক, প্রতারক, অত্যাচারী। আমার মৃত্যুর জন্য মনজিলাই মূল দায়ী। ২ নম্বর মাইনুদ্দিন আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা নিয়ে স্বীকার করেন না। মাইনুদ্দিন ফাঁকিবাজ, অলস, শয়তান। তিনি আমার টাকা গুলো মেরে খাওয়ার জন্য মনজিলার সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ৩ নম্বর ইতি দাস আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে স্বীকার করেন না। আমার মোট বেতন ও গাছ বিক্রির টাকা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকা পাওনা। আমার মৃত্যুর জন্য কাউকে খাওয়া-দাওয়ার দরকার নেই।
এ ব্যাপারে নড়িয়া উন্নয়ন সমিতির (নুসা) মানবসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কমল খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আমি সকালে খবর পেয়ে এখানে আসি। পরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তার মরদেহের পাশে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েকজন কর্মীকে টাকা ধার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আহসান হাবীব বলেন, খবর পেয়ে এক এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট জব্দ করেছি। সুইসাইড নোটে এনজিওটির টাকা-পয়সার বিষয় উল্লেখ ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।