জাজিরা পদ্মার চরে পাওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে

জাজিরা পদ্মার চরে পাওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে


শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর চর থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করে
মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে এক নারী মরদেহটি তার স্বামীর বলে দাবি করেন। তখন সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট মৃত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করলে পরিচয় শনাক্ত হয়। বুধবার দুপুরে ওই মরদেহের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টায় উপজেলার পালেরচর এলাকার পদ্মা নদীর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নৌ-পুলিশ, সিআইডি ক্রাইমসিন ইউনিট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় নিখোঁজ হয় জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবার আলম খাঁর কান্দি গ্রামের জেলে মজিবর রহমান ফকির। মঙ্গলবার রাতে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর জাহানারা বেগম নামে এক নারী সেটি তার স্বামীর দেহ বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে নৌ-পুলিশ মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তর জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেয়। বুধবার দুপুরে তারা এসে ডিভাইস সেন্সরের মাধ্যমে মরদেহের দুই হাতের চার আঙুলের ছাপ নেয়। পরে এনআইডি সার্ভারের সহযোগিতায় মৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়। মরদেহ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মোঃ হানিফ (৩২)। তিনি কিশোরগঞ্জে কটিয়াদী থানার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুমুরদিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে।
পদ্মায় নিখোঁজ মজিবরের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে অভিযানের সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে জাজিরা পূর্ব নাওডোবার আলম খাঁর কান্দি এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মজিবর রহমান । মঙ্গলবার রাতে নৌ-পুলিশ একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। তাই তিনি ভেবেছিলেন মরদেহটি তার স্বামীর।
জাজিরা মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে পদ্মা নদীর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। কিন্তু স্থানীয় জাহানারা বেগম নামে এক নারী দাবি করেন, সেটি তার স্বামীর মরদেহ। তাই আমরা সিআইডি ক্রাইম সিন ফরিদপুর ইউনিটকে জানালে তারা আঙুলের ছাপ নিয়ে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করে।এরইমধ্যে হানিফের পরিবারকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সিআইডি তার মৃত্যুর বিস্তারিত বিষয় জানার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ফরিদপুরের সিআইডি উপ-পরিদর্শক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা মৃত ব্যক্তির দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরীক্ষা করে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বের করতে সক্ষম হয়েছি। মৃত ব্যক্তির বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।

Leave a Reply